ফুটবল মানেই গোলের রোমাঞ্চ। আর সেই রোমাঞ্চের চূড়ান্ত রূপ দেখা যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্টের অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিতে না দিতেই বল জালে জড়ানোর উৎসবে মেতেছে দলগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের মোট গোলের হিসাবকে পেছনে ফেলে ২০২৬ আসর এখন সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডের একক মালিক।
লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রুপ পর্বের একটি লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় জালের দেখা পান মার্কিন তারকা অস্টন ট্রাস্টি। আর এই শটেই ইতিহাস নতুন করে লেখা হয়। এটি ছিল চলতি টুর্নামেন্টের ১৭৩ নম্বর গোল, যার মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপের গড়া ১৭২ গোলের রেকর্ডটি চিরতরে অতীত হয়ে যায়।
গ্রুপ ‘ডি’-এর এই ম্যাচটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আগেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করায় কোচ মরিসিও পচেত্তিনো একাদশে বেশ কিছু নতুন মুখকে পরখ করে দেখার সুযোগ নেন। তবে শুরুতেই ট্রাস্টির গোলে লিড পায় স্বাগতিকরা।
পিছিয়ে পড়ে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফেরে তুরস্ক। আরদা গুলের এবং বারিস ইলমাজ লক্ষ্যভেদ করে দলকে লিড এনে দেন। বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেবাস্তিয়ান বারহাল্টার অনেক দূর থেকে দর্শনীয় এক শটে স্কোরলাইন ২-২ করেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে কান আইহানের পা থেকে আসা জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নেয় টার্কিশরা। এই পাঁচ গোলের সুবাদে টুর্নামেন্টে মোট জালের দেখা পাওয়ার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭-এ।
ম্যাচ সংখ্যার দিকে কাতারে পুরো টুর্নামেন্টের ৬৪ ম্যাচ শেষে গোল ছিল ১৭২টি। সেখানে এবারের আসরের মাত্র ৫৯তম ম্যাচেই সেই মাইলফলক পেরিয়ে গেছে দলগুলো। নতুন ফরম্যাটের প্রভাবে এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে। মোট ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। ম্যাচ ও দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গোলের সুযোগও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখে মুগ্ধ খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি জানান, এত দ্রুত কাতারের রেকর্ড ভেঙে যাওয়া প্রমাণ করে এবারের আসর কতটা উত্তেজনাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক হচ্ছে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া যুক্তরাষ্ট্র এই হারে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নকআউট পর্বের প্রথম ধাপে, অর্থাৎ শেষ ৩২-এ তাদের লড়তে হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস