ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ, গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ইস্যুতে চার দফা দাবি জানিয়ে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা করেছেন মুসল্লিরা। এ সময় তারা ‘নো আর্জেন্টিনা, নো ব্রাজিল’ স্লোগান দিয়ে ওই দুই দেশের জার্সি ও পতাকা বর্জনের আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতীকও বর্জন করা উচিত।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ‘বায়তুল মোকাররমের মুসল্লিবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে তারা এ আহ্বান জানান। এ সময় কয়েকশ মুসল্লি বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ফিলিস্তিনে নিরীহ নারী-শিশুসহ হাজারো মানুষ নিহত হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। তাদের অভিযোগ, বিশ্বের কয়েকটি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ হিসেবেই তারা ‘নো আর্জেন্টিনা, নো ব্রাজিল’ স্লোগান তুলেছেন। এটি কোনো খেলাধুলার বিরোধিতা নয়; বরং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি। মুসলিম বিশ্বের জনগণকে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।
বিক্ষোভে বক্তারা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারসহ মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরও সক্রিয় ও জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ; মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট, আকামা নবায়ন ফি এবং ভিসা-পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতা সংসদে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ; চলতি বাজেটে কওমি মাদ্রাসার জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদান; এবং নবী-রাসুলদের অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা শাহ আলম বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিশুদের কোরআন ও মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি বছর ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা নবায়নে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। পাশাপাশি পাসপোর্ট, আইডি কার্ড ও অন্যান্য কাগজপত্রের কাজেও নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এসব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও কয়েকজন বক্তা ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা সেখান থেকে চলে যান।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস