নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে মসুর ডাল ও ভোজ্য তেল কেনার চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ সব ক্রয়ে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত পণ্যগুলো ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী এক কোটি নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস থেকে প্রতি কেজি ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে এ ডাল সংগ্রহ করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এ ক্রয়ের জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে সবগুলো প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হলেও সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৫৫৯ মার্কিন ডলার দরে এ ডাল কেনা হবে। এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদামে প্রতি কেজি ডালের মূল্য দাঁড়াবে ৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৮ মেট্রিক টন ডাল কেনা হয়েছে।
এদিকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও বড় দুটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হবে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডের কাছ থেকে এ তেল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য দাঁড়াবে ১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা।
টিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ক্রয় যুক্ত হলে এ পর্যন্ত পাম অলিন ও সয়াবিন তেল মিলিয়ে ১৪ কোটির বেশি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহ নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়।
বাংলা৭১নিউজ/এবি