সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত, সবাই সিলেটের বাসিন্দা তৃণমূলের সেবায় আগ্রহী নন আইনজীবীরা, বাড়ানো হবে ফি : সংসদে আইনমন্ত্রী গৃহকর্মী রিক্তার মৃত্যু: বরখাস্ত হচ্ছেন পাউবো কর্মকর্তা সবিবুর ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর শোক জামায়াত আমিরের সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কি সোমবারই পদত্যাগ করছেন এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

আয়করে বৈষম্যের অভিযোগ সিপিডির

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর কাঠামোয় বৈষম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

সংস্থাটির দাবি, নতুন কর ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ বেশি বাড়ছে, অথচ উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধি অনেক কম।

রবিবার (২১ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত বাজেট-পর্যালোচনা সংলাপে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সিপিডি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত কর কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় করা করদাতাদের ক্ষেত্রে করের বোঝা বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

তিনি বলেন, এই ধরনের কাঠামো সামাজিক ন্যায়বিচার ও কর ব্যবস্থার সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলে সিপিডি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দে প্রত্যাশিত প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কোথাও বরাদ্দ কমেছে, কোথাও স্থবির রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়া ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং কার্যকর মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে, সামষ্টিক অর্থনীতির বেশ কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা অত্যধিক আশাবাদী বলে মনে হচ্ছে।

তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সংলাপে আরো বক্তব্য দেন— পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com