মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এলপি গ্যাসের দাম কমেছে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে ‘চিরুনি অভিযান’, হাসপাতাল-টেস্টে ছাড় ঘোষণা দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসিতে নতুন চেয়ারম্যান-কমিশনার নিয়োগ বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে নরওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রামিসা হত্যা: আদালতে স্বজন-প্রতিবেশীদের সাক্ষীতে উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র আমাদের সবার সন্তান থাকলেও তাদের সুরক্ষা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই: ডেপুটি স্পিকার ৪৮ ডিগ্রি তাপপ্রবাহে উত্তপ্ত উত্তর প্রদেশের বান্দা, ‘সব সময়ই যেন দুপুর’ সি‌ন্ডিকেটমুক্ত না করতে পারলে চলে যাব : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ‘বাজেট বরাদ্দের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জুলাই-আগস্টে সিদ্ধান্ত’

ভীতিকর এক মিনিট ২৭ সেকেন্ডের বর্ণনা দিলেন ছিনতাইয়ের শিকার তরুণী

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বড় বোন রাজধানীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং ছোট বোন মোহাম্মদপুর এলাকার একটি কলেজের এমবিএর শিক্ষার্থী। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের এম গলির ২৬ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে দুই বোন বাস করেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়েছিলেন তারা। ছুটি শেষে বাসে করে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় ঢাকার শ্যামলীতে আসেন। সেখান থেকে একটি রিকশা নিয়ে নূরজাহান রোডের বাসার সামনে যাওয়া মাত্র ছিনতাইয়ের শিকার হন তারা। ধারাল চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সব লাগেজ পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এরমধ্যে কোরবানির কাঁচা ও রান্না মাংস, আটা, ফোন, স্বর্ণালঙ্কারও ছিল। 

আজ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের একজন  গণমাধ্যমকে বলেন, শ্যামলীতে বাস কাউন্টারে নেমে তারা দেখেন, সেখানে কোনো লোকজন নেই। আশপাশেও ফাঁকা। তাই সেখানে অবস্থান করাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে দুই বোন একটি রিকশা নিয়ে নূরজাহান রোডের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

নূরজাহান রোডের এম গলিতে ঢোকার পর একটি পিকআপ ভ্যান তাদের পেছন দিক থেকে এসে রিকশার পাশে থামে এবং একজন মাথা বের করে ৬ নম্বর সড়ক কোথায় জানতে চায়। তখন রিকশাচালক তাদের সামনে গিয়ে ডানে যেতে বলেন।

পিকআপটি সামনে এগিয়ে আবার পেছনে ফিরে আসে। এরইমধ্যে তাদের রিকশা বাসার সামনে পৌঁছেছে। তারা রিকশা থেকে নামামাত্র পিকআপটি তাদের বাসার পাশে থামে। তাতে চালকসহ তিনজন ছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, পিকআপ ভ্যান থামায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। এরইমধ্যে পিকআপ থেকে লুঙ্গি ও ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি হাতে চাপাতি নিয়ে নেমে এসে তাদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং চিৎকার করতে নিষেধ করেন। ওই ছিনতাইকারী দুই বোনকে বলে, যা আছে সব বের কর, ফোন কোথায়, মানিব্যাগ কোথায়? এরইমধ্যে আরও একজন পিকআপ থেকে নেমে আসে।

ভুক্তভোগী তাকে জানান, তার কাছে কিছু নেই এবং চাইলে তল্লাশী করতে পারেন। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে ও তার বোনকে তল্লাশী করে। গলায় চেইন বা কানে দুল আছে কি না তাও খোঁজ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বারবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, একটা শব্দ করবি না। টু শব্দ করলে এক কোপে কল্লা ফেলে দেব, গলা দুই টুকরা করে দেব। রিকশাচালক প্রথমে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন শুধু মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে ছিনতাইকারীরা চলে যাবে। কিন্তু তাদের সব মালামাল পিকআপে তুলে নেয়। এর মধ্যে ছিল দুই বোনের ভ্যানিটি ব্যাগ, লাগেজ এবং বাড়ি থেকে আনা বিভিন্ন জিনিসপত্র। বাড়ি থেকে তারা প্রায় ১০ কেজি কাঁচা কোরবানির মাংস, দেড় কেজির মত রান্না করা মাংস, আটা, আম এনেছিলেন।

মাংস তাদের মা রান্না করে দিয়েছিলেন। এছাড়া ব্যাগে নগদ ৩৪ হাজার টাকা, দুই বোনের স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, বেচলেট ও আংটি ছিল। রাতে আসার কারণে বাড়ি থেকেই সেগুলো খুলে ব্যাগে নিয়েছিলেন তারা। সবকিছু্ই দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমরা কল্পনাও করেনি, সবকিছু নিয়ে যাবে ছিনতাইকারীরা। ভেবেছিলাম টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যাবে। আমার বোন তার মোবাইল ফোন ও ছোট একটি ব্যাগ শ্যামলীতে রিকশার সিটের নিচে রেখে দিয়েছিল। সেগুলো নিতে পারেনি ছিনতাইকারীরা। 

তিনি জানান, এক মিনিট ২৭ সেকেন্ডের মধ্যে ছিনতাইকারীরা মালামাল নিয়ে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীকে ডেকে ওঠান তারা। পরে বাসায় ঢুকে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ আসে। রোববার তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com