বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা সেবন করে রামিসার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ঘাতক সোহেল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি থেকে এআই, ২০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন শি-পুতিন এ দেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল আগামী তিন বছরের মধ্যে অর্গানিক মাংস রপ্তানির ঘোষণা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে’ লন্ডনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসার বাহিনীকে আরও দক্ষ-গতিশীল করে তুলবে: প্রধানমন্ত্রী

কেমন হলো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল!

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নেইমারকে নিয়ে শঙ্কা ছিল। আশাও ছিল। প্রত্যাশা আর শঙ্কার দোলাচলে দুলতে দুলতে অবশেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তির মুখে শোনা গেলো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে থাকছেন সান্তোস তারকা নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়র।

রিও ডি জেনিরোয় যেখানে বসে আনচেলত্তি যখন বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করছিলেন, তখন তার পাশেই ফুটসাল খেলছিলেন বেশকিছু শিশু-কিশোর। হঠাৎই তারা খেলা থামিয়ে দিলো। আনন্দে উল্লাস করে উঠলো নেইমারের নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গেই। রিও ডি জেনিরো থেকে শুরু করে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে আনন্দ মিছিলও হলো নেইমারের দলে অন্তর্ভুক্তিতে।

অর্থাৎ, মেসির মতোই ব্রাজিলিয়ানরা বিশ্বাস করে, ইনজুরি থেকে ফিরে পুরোপুরি ফিট হতে না পারলেও নেইমার এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তার উপস্থিতিই ব্রাজিল দলের পরিবেশ এবং চেহারা- দুটোই পাল্টে দেবে।

আগের সেই জৌলুস হয়তো এখন নেই। তবুও বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল এখনো অন্যতম পরাশক্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও শিরোপার বড় দাবিদারদের তালিকায় থাকবে সেলেসাওরা।

পেলে, গ্যারিঞ্চা, রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনহো ও রিভালদোর মতো কিংবদন্তিরা গায়ে জড়িয়েছেন ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি। পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিও ব্রাজিলের, যা অন্য কোনো দেশের নেই।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে ব্রাজিল নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেনি। ২০০৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১০ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। কিন্তু সবচেয়ে বড় হতাশা আসে ২০১৪ বিশ্বকাপে। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বস্ত হওয়া ইতিহাসের অন্যতম বড় লজ্জা হয়ে আছে ব্রাজিলের জন্য। পরে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে জার্মানরা।

 

২০১৮ বিশ্বকাপেও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল; কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে আবারও হতাশ হতে হয়। ২০২২ বিশ্বকাপেও একই চিত্র। নাটকীয় টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় সেলেসাওরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বেও খুব একটা দাপুটে ছিল না ব্রাজিল। যদিও কার্লো আনচেলত্তির মতো সিরিয়াল জয়ী কোচের আগমন এবং ইউরোপের বেশ কয়েকজন দারুণ প্রতিভাবান ফুটবলারের উপস্থিতি নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল।

কেমন হলো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল। যদিও দু’তিনজন খেলোয়াড়কে দলে না রাখায় সমালোচিত হচ্ছেন আনচেলত্তি। যেমন চেলতি তারকা হোয়াও পেদ্রো, এস্তেভাওকে দলে রাখেননি কোচ। এস্তেভাও কিছুটা ইনজুরিতে। কিন্তু হোয়াও পেদ্রো অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও টুর্নামেন্ট সেরা গোলটি করেছিলেন রিচার্লিসন। টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলা এই ফরোয়ার্ডকেও দলে রাখেননি কোচ। ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় বুড়ো ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভাকে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো চূড়ান্ত দলেও থাকবেন তিনি। না হয়, প্রাথমিক দলে রাখা কেন? কিন্তু চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি সিলভার। ইনজুরি সত্বেও দানিলোকে দলে রাখায় সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে কোচকে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আনচেলত্তি কাদের নিয়ে গড়েছেন ব্রাজিল দল।

গোলরক্ষক

ব্রাজিলের গোলরক্ষক পজিশন বরাবরই শক্তিশালী। লিভারপুলের অ্যালিসন বেকার এখনো কোচের প্রথম পছন্দ। তার সঙ্গে রয়েছেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষক এডারসন, যিনি পেপ গার্দিওলার অধীনে বহু শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছেন। তৃতীয় পছন্দ হিসেবে থাকছেন ওয়েভারটন।

খেলোয়াড় ক্লাব
অ্যালিসন লিভারপুল
এডারসন ফেনারবাখ
ওয়েভারটন গ্রেমিও

ডিফেন্ডার

ব্রাজিলের রক্ষণভাগে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার মিশেল। পিএসজির মারকুইনহোস থাকবেন রক্ষণভাগের প্রধান নেতা। লেফট ব্যাক ডিফেন্ডার হিসেবে এখনো নির্ভরযোগ্য নাম সাবেক জুভেন্টাস তারকা আলেক্স সান্দ্রো।

আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। মারকুইনহোসের সঙ্গে সেন্টার-ব্যাক জুটিতে তাকেই দেখা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে রয়েছেন জুভেন্টাসের ব্রেমার।

খেলোয়াড় ক্লাব
মারকুইনহোস পিএসজি
ইবানেজ আল-আহলি
লিও পেরেইরা ফ্ল্যামেঙ্গো
দানিলো ফ্ল্যামেঙ্গো
আলেক্স সান্দ্রো ফ্ল্যামেঙ্গো
ওয়েসলি রোমা
ব্রেমার ইউভেন্তুস
গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস আর্সেনাল
ডগলাস সান্তোস জেনিত

মিডফিল্ডার

নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ব্রুনো গিমারায়েস নিজেকে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয় দলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার সঙ্গে মাঝমাঠে দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরোকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারের জন্য এটিই হতে পারে ব্রাজিলের হয়ে শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট।

২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন লুকাস পাকেতা। তিনিও আছেন ২৬ সদস্যের দলে। অভিজ্ঞ সাবেক লিভারপুল মিডফিল্ডার ফ্যাবিনহোকেও রাখা হয়েছে ব্যাকআপ বিকল্প হিসেবে।

খেলোয়াড় ক্লাব
ব্রুনো গিমারায়েস নিউক্যাসল ইউনাইটেড
ক্যাসেমিরো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দানিলো সান্তোস বোটাফোগো
লুকাস পাকেতা ফ্ল্যামেঙ্গো
ফাবিনহো আল-ইত্তিহাদ

আক্রমণভাগ

ব্রাজিলের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ নিঃসন্দেহে আক্রমণভাগ। এখানে বিকল্পের অভাব নেই।

স্কোয়াড ঘোষণার আগে সবচেয়ে বড় আলোচনা ছিল নেইমারকে নিয়ে। সান্তোস ফরোয়ার্ড পুরোপুরি ফিট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকাকে দলে রেখেছেন। ফলে জায়গা হয়নি হোয়াও পেদ্রো এবং আন্তোনির।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ইতোমধ্যে আনচেলত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একাধিক শিরোপা জিতেছেন। লেফট উইংয়ে তার প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিকল্প হিসেবে থাকবেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। চোটের কারণে দলে নেই রদ্রিগো। অন্যদিকে হান্সি ফ্লিকের অধীনে জীবনের সেরা ফর্মে থাকা রাফিনহার দিকে বিশেষ নজর থাকবে সবার।

ম্যাথিউস কুনহা কিংবা ইগর থিয়াগোর একজনকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে। জানুয়ারিতে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে লিওঁতে ধারে গিয়ে দারুণ পারফর্ম করা তরুণ এন্দ্রিকও হতে পারেন চমক।

প্রিমিয়ার লিগের ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন ও এস্তেভাও জায়গা পাননি দলে। এস্তেভাও এপ্রিলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি।

খেলোয়াড় ক্লাব
নেইমার সান্তোস
রাফিনহা বার্সেলোনা
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদ
ম্যাথিউস কুনহা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
রায়ান বোর্নমাউথ
গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি আর্সেনাল
লুইজ হেনরিকে জেনিত
এনদ্রিক রিয়াল মাদ্রিদ/লিওঁ
ইগর থিয়াগো ব্রেন্টফোর্ড

২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে বেশ কয়েকজন বড় তারকা রয়েছেন, যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন।

পিএসজির মারকুইনহোস এখনো রক্ষণভাগের মূল ভরসা। লিগ ওয়ানের শিরোপাজয়ী মৌসুম শেষে তিনি দারুণ ছন্দে আছেন। আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েলও রক্ষণে ধারাবাহিক পারফর্ম করেছেন, পাশাপাশি সেট-পিস থেকে গোল করার সামর্থ্যও রয়েছে তার।

আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহাকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। আর নেইমারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সম্ভবত বেঞ্চ থেকে ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় হিসেবে নামবেন তিনি। ব্রাজিলের জার্সিতে এটিই হয়তো তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ

গোলপোস্টের নিচে প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকবেন অ্যালিসন বেকার। ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন এডারসন।

রক্ষণে আনচেলত্তি বরাবরই চার ডিফেন্ডারের ফরমেশন পছন্দ করেন। বিশ্বকাপেও একই কৌশল দেখা যেতে পারে। সেন্টার-ব্যাকে মারকুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল জুটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চোটে থাকা ভ্যান্ডারসনের পরিবর্তে ডান পাশে খেলতে পারেন ওয়েসলি। বাঁ-পাশে থাকবেন ফ্ল্যামেঙ্গোর আলেক্স সান্দ্রো।

মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস ও ক্যাসেমিরো রক্ষণভাগকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনহা ও রাফিনহার ওপরই থাকবে বড় দায়িত্ব।

সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১)

অ্যালিসন, ওয়েসলি, গ্যাব্রিয়েল, মারকুইনহোস, আলেক্স সান্দ্রো, ব্রুনো গিমারায়েস, ক্যাসেমিরো; রাফিনহা, এনদ্রিক, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনহা।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com