
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। গত বছরের ২৩ জুলাই ওই রেকর্ড অর্জিত হয়েছিল। প্রায় ১০ মাস পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল দেশের বিদ্যুৎ খাত।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তীব্র গরমের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে আবাসিক খাতে শীততাপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা এসি এবং ফ্যানের ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদন দুই-ই বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশটি আসে আবাসিক খাত থেকে। এই খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা মূলত বাসা-বাড়ির ফ্যান, লাইট, এসি ও অন্যান্য দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে লাগে।
আবাসিক খাতের পর শিল্প খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। মোট ব্যবহারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে শিল্পকারখানা থেকে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), টেক্সটাইল ও ভারী শিল্প অন্যতম। অন্যদিকে বাণিজ্যিক খাত যেমন—মার্কেট, অফিস ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। বাকি অংশ কৃষি ও সেচ কার্যক্রম এবং রাস্তাঘাটের আলোকসজ্জাসহ অন্যান্য জনসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চাহিদার তারতম্যের ওপর বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেকর্ড উৎপাদন সত্ত্বেও গরমের কারণে দেশের কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিতরণ ব্যবস্থায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস