বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা সেবন করে রামিসার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ঘাতক সোহেল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি থেকে এআই, ২০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন শি-পুতিন এ দেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল আগামী তিন বছরের মধ্যে অর্গানিক মাংস রপ্তানির ঘোষণা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে’ লন্ডনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসার বাহিনীকে আরও দক্ষ-গতিশীল করে তুলবে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম বাড়ানোর বড় প্রস্তাব

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা লোকসান ও ভর্তুকির লাগাম টানতে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা। 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং ক্যাপাসিটি চার্জের সংকটকে এই মূল্যসমন্বয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছে সংস্থাগুলো, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী ২০-২১ মে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানির পর।

দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৫৮ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অধীনে গ্রাহক রয়েছে ৪৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৮৯ জন, যার মধ্যে ৩৮ লাখ গ্রাহকই আবাসিক। পিডিবির মূল্যবৃদ্ধির এই প্রস্তাবের ফলে মূলত এই বিপুল সংখ্যক আবাসিক গ্রাহকরাই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বেন।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ বিপিডিবির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ আরও তিন গুণ বেড়ে ৩২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকায় দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি কমিয়ে আনতেই মূলত খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি।

আবাসিক খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মূলত ছয়টি স্ল্যাব বা স্তর রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ও নিম্নআয়ের গ্রাহকরা সাধারণত ০-৫০ ইউনিট এবং ০-৭৫ ইউনিটের স্ল্যাব দুটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, যেখানে প্রতি ইউনিটের বর্তমান বিল যথাক্রমে ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ও ৫ টাকা ২৬ পয়সা। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় বিলের পরিমাণ ৭ টাকা ২০ পয়সা।

পিডিবির নতুন মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে বড় পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি তাদের নতুন পরিকল্পনায় ০ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের একই স্ল্যাবের আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব করেছে।

এই নতুন স্ল্যাবের জন্য প্রতি ইউনিটের মূল্য ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক গ্রাহকেরা; এমনকি মাসে মাত্র ৫০ ইউনিট ব্যবহার করা একজন নিম্নআয়ের গ্রাহকেরও মাসিক বিদ্যুৎ খরচ প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্যও বিপিডিবি উল্লেখযোগ্য হারে বিল বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের বিল ২১.৭৪ শতাংশ এবং ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে ২২.৪৫ শতাংশ। এছাড়া ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ২৩.২৯ শতাংশ এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের বিল ২৩.৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে চায় সংস্থাটি।

শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, এই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লাগবে দেশের উৎপাদনশীল ও সেবা খাতেও। আবাসিক খাতের পাশাপাশি সেচ পাম্প, নির্মাণ খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা এবং ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনগুলোর বিদ্যুতের দামও ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাইকারি দামও বাড়াতে চায় পিডিবি

খুচরা পর্যায়ের পাশাপাশি বিদ্যুতের পাইকারি দামও বাড়ানোর বড় প্রস্তাব দিয়েছে বিপিডিবি। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম। এই অসামঞ্জস্যতার কারণে প্রতি বছর বিপিডিবির লোকসান ও সরকারের ভর্তুকির বোঝা বেড়েই চলেছে।

চলতি অর্থবছরে পিডিবির মোট ব্যয় ১ লাখ ১২ হাজার ৮৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে লোকসানের পরিমাণই ৬০ হাজার ১২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি বছর ৩৮ হাজার ৬৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। এদিকে আসন্ন অর্থবছরে বিদ্যুৎ ক্রয়ে পিডিবির সম্ভাব্য খরচ আরও বেড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা হতে পারে। 

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, পাইকারি মূল্য বাড়ানো না হলে আগামী অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার সামগ্রিক রাজস্ব চাহিদা বিবেচনা করে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিট ১২ টাকা ৯১ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। 

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ১৬ হাজার ৬২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

পাইকারি পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিপিডিবি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে গ্যাস, কয়লা ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ, কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ, ডলারের অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সুদের অর্থ পরিশোধের বিষয়গুলোকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পল্লী বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব

দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডও (আরইবি) তাদের লোকসান সামাল দিতে নতুন মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৮ হাজার ১২৬ জন গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশই গ্রামীণ ও প্রান্তিক আবাসিক গ্রাহক।

চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। তবে আগামী অর্থবছরে এই লোকসানের বোঝা আরও বেড়ে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি কাটিয়ে উঠতেই মূলত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, একেবারে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে ৫০ ইউনিটের কম ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে কোনো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

ফলে ০-৫০ ইউনিটের লাইফ লাইন গ্রাহকদের বিল বর্তমানের মতো প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সাই বহাল থাকবে। তবে কোনো গ্রাহক যদি ৫০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তবে তার পুরো বিলটি সরাসরি ৭৫ ইউনিটের স্ল্যাবের সমপরিমাণ হারে করার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

প্রস্তাব অনুসারে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পল্লী বিদ্যুৎ তাদের বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করেছে। তবে ক্রমবর্ধমান লোকসানের লাগাম টেনে ধরতে সংস্থাটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৯ টাকা দরে বিক্রি করার দাবি জানিয়েছে।

ডেসকোর লোকসান ও ডিমান্ড চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব

পাইকারি পর্যায়ে ৩৬.৯৮ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ২৫.২ শতাংশ দাম বাড়ানোর পরও চলতি অর্থবছরে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫৯৬ কোটি টাকা।

সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, বর্তমান দাম বহাল থাকলে আগামী দুই অর্থবছরে এই লোকসানের পরিমাণ ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এই বিশাল লোকসান থেকে বাঁচতে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৯.৬৭ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করেছে ডেসকো।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রস্তাবনায় কোনো মুনাফা ধরা হয়নি। এমনকি সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে আবাসিক গ্রাহকদের লাইফ লাইন (প্রান্তিক স্তর) ও প্রতিটি স্ল্যাবের বিদ্যমান রেট সুবিধা এবং কৃষিখাতের ট্যারিফ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে যেহেতু কোনো সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয় না, তাই ঘাটতি পোষাতে তারা ডিমান্ড চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

অন্যদিকে, প্রায় ১৮ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) চলতি অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ১৩৬ কোটি টাকা। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সংস্থাটি খুচরা পর্যায়ে ৬.৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।

আর্থিক ঝুঁকি ও বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে ডিপিডিসি তাদের প্রস্তাবনায় প্রিপেইড মিটারে সিকিউরিটি চার্জ বা জামানত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। 

সংস্থাটির মতে, প্রিপেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো জামানত না নেওয়ার সুযোগে মিটার বাইপাস এবং টেম্পারিং (অবৈধ হস্তক্ষেপ) করার প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে যে আর্থিক ক্ষতি ও জরিমানা আদায়ের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তা দূর করতেই এই সিকিউরিটি চার্জের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নেসকোর পরিচালন ব্যয় ও রেট বৃদ্ধির প্রস্তাব

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় প্রায় ২২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে আসছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। সংস্থাটির দাবি, জনবল, প্রশাসনিক কার্যক্রম, লাইনের সংরক্ষণ ও মেরামত এবং নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে তাদের সার্বিক বিতরণ ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বিবরণী অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে নেসকোর ক্ষতি হচ্ছে ৩ পয়সা করে। এই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা নিট বিলিং রেট বর্তমানের ৯ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৮ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) চলতি অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ৩১.৮৭ কোটি টাকা। সংস্থাটি জানায়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে সেই অনুপাতে দাম না বাড়ায় এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের মাঝে প্রতি ইউনিটে ০.৮৫৩৩ টাকা ঘাটতি থাকায় এই লোকসান তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওজোপাডিকো খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করেছে। এর মধ্যে প্রান্তিক গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) ব্যবহারকারীদের জন্য ৮ শতাংশ এবং বাকি অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ১২.২৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রাহক পর্যায়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস, তেলসহ প্রায় সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়ায় সাধারণ মানুষ এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর আবার নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি। এই বিষয়ে ২০-২১ তারিখে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেই শুনানিতে প্রাপ্ত মতামত ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিইআরসি সবসময় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। নতুন দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর যাতে কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, কমিশন সেটি নিশ্চিত করবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com