অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই জানায়, গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
পিবিআই জানায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র ইমো অ্যাপ ও অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তার ও স্বজনদের বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্র।
এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া মামলাটির তদন্তভার নেয়।
পিবিআই আরও জানায়, তদন্তে পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। পরে ১৭ মে অভিযান চালিয়ে মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং বিকাশ ডিএসও মো. জাবেদুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, এটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্র, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রবাসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।
পলাতক আসামি প্রাণ ইসলাম গ্রেপ্তার খাইরুল ইসলামকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘আরিফ মন্ডল’ ছদ্মনামে ভুয়া সফলতার ভিডিও তৈরি করাত। পরে এসব ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে বুস্ট করে প্রতারণার প্রচারণা চালানো হতো।
পিবিআই আরও জানায়, অন্যদিকে জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে অবৈধ অর্থ ক্যাশ আউট ও লেনদেনে গোপন সহায়তা করত বলে জানায় পিবিআই। চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, চক্রটির অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।
বাংলা৭১নিউজ/এসএন