ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এশিয়া, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন

এশিয়ার রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা। এবার আগুন খেলা চলছে চীনের কানের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাগরে শক্তি প্রদর্শনের মহড়ায় নামাকে কোনোভাবেই ভালোবাবে নিচ্ছে চীন। বেইজিং বলছে, এর পরিণতি কোনোভাবেই ভালো হবে না।

দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালিকে কেন্দ্র করে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি চরম উত্তপ্ত। এবার সেখানেই শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের মিত্র বাহিনীর এ যাবৎকালের বৃহত্তম সামরিক মহড়া ‘বালিকাতান ২০২৬’। 

সোমবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৪১তম বারের মতো এই মহড়ার উদ্বোধন করা হয়। এবারের মহড়ায় মার্কিন ও ফিলিপাইন সেনাদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো জাপানি সৈন্যদের একটি শক্তিশালী দল সরাসরি অংশ নেওয়ায় এই আয়োজন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭ হাজারেরও বেশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য ১৯ দিনব্যাপী এই ‘শোল্ডার টু শোল্ডার’ মহড়ায় অংশগ্রহণ করছেন। এতে অন্যান্য সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স ও কানাডার প্রতিনিধি দল।

চীন এই মহড়াকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অন্ধভাবে দলবদ্ধ হওয়া কেবল উত্তেজনাই বৃদ্ধি করবে, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালির নিকটবর্তী উত্তর ফিলিপাইনে এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমার কাছে এই মহড়া পরিচালনার বিষয়টি বেইজিং ভালোভাবে নেয়নি।

এবারের মহড়ায় জাপানের পক্ষ থেকে ‘টাইপ ৮৮’ সারফেস-টু-শিপ মিসাইল ব্যবহার করে একটি পরিত্যক্ত জাহাজ ধ্বংস করার মতো সরাসরি গোলাবর্ষণ অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কখনো ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া মুখপাত্র কর্নেল রবার্ট বান জানিয়েছেন, এই বিশাল মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না। বরং এটি ফিলিপাইনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লৌহকঠিন’ বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং একটি মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বজায় রাখার অঙ্গীকার। 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি পার করছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে চীন থেকে ইরানগামী একটি জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ক্রুব্ধ হয়ে আছে চীন। তারা একে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়াবাড়ি হিসেবেই দেখছে। তার মাঝেই চীনের কান ঘেঁষে এই ধরনের মহড়াকে কোনোভাবেই সাধারণ হিসেবে নিচ্ছে না বিশ্লেষকরা। শোনা যাচ্ছে, মালাক্কা প্রণালিতেও অবরোধ বসিয়ে চীনকে কাবু করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক এইসব পদক্ষেপ এশিয়ার আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যেকোনো সময় একটা দিয়াশলাই কাঠির খোঁচাতেই জ্বলে উঠতে পারে ভয়ংকর বারুদস্তুপ।

সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এশিয়া, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন

আপডেট সময় ০৫:২৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

এশিয়ার রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা। এবার আগুন খেলা চলছে চীনের কানের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাগরে শক্তি প্রদর্শনের মহড়ায় নামাকে কোনোভাবেই ভালোবাবে নিচ্ছে চীন। বেইজিং বলছে, এর পরিণতি কোনোভাবেই ভালো হবে না।

দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালিকে কেন্দ্র করে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি চরম উত্তপ্ত। এবার সেখানেই শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের মিত্র বাহিনীর এ যাবৎকালের বৃহত্তম সামরিক মহড়া ‘বালিকাতান ২০২৬’। 

সোমবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৪১তম বারের মতো এই মহড়ার উদ্বোধন করা হয়। এবারের মহড়ায় মার্কিন ও ফিলিপাইন সেনাদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো জাপানি সৈন্যদের একটি শক্তিশালী দল সরাসরি অংশ নেওয়ায় এই আয়োজন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭ হাজারেরও বেশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য ১৯ দিনব্যাপী এই ‘শোল্ডার টু শোল্ডার’ মহড়ায় অংশগ্রহণ করছেন। এতে অন্যান্য সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স ও কানাডার প্রতিনিধি দল।

চীন এই মহড়াকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অন্ধভাবে দলবদ্ধ হওয়া কেবল উত্তেজনাই বৃদ্ধি করবে, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালির নিকটবর্তী উত্তর ফিলিপাইনে এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমার কাছে এই মহড়া পরিচালনার বিষয়টি বেইজিং ভালোভাবে নেয়নি।

এবারের মহড়ায় জাপানের পক্ষ থেকে ‘টাইপ ৮৮’ সারফেস-টু-শিপ মিসাইল ব্যবহার করে একটি পরিত্যক্ত জাহাজ ধ্বংস করার মতো সরাসরি গোলাবর্ষণ অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কখনো ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া মুখপাত্র কর্নেল রবার্ট বান জানিয়েছেন, এই বিশাল মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না। বরং এটি ফিলিপাইনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লৌহকঠিন’ বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং একটি মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বজায় রাখার অঙ্গীকার। 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি পার করছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে চীন থেকে ইরানগামী একটি জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ক্রুব্ধ হয়ে আছে চীন। তারা একে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়াবাড়ি হিসেবেই দেখছে। তার মাঝেই চীনের কান ঘেঁষে এই ধরনের মহড়াকে কোনোভাবেই সাধারণ হিসেবে নিচ্ছে না বিশ্লেষকরা। শোনা যাচ্ছে, মালাক্কা প্রণালিতেও অবরোধ বসিয়ে চীনকে কাবু করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক এইসব পদক্ষেপ এশিয়ার আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যেকোনো সময় একটা দিয়াশলাই কাঠির খোঁচাতেই জ্বলে উঠতে পারে ভয়ংকর বারুদস্তুপ।

সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ