
ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। তবে স্বস্তির পাশাপাশি যানজটে ভোগান্তি রয়েছে এবারে ফিরতি ঈদযাত্রায়। সড়কপথে যানবাহনের ধীরগতির পাশাপাশি রেলপথেও দেখা দিয়েছে বিলম্ব ও বিশৃঙ্খলা। ফলে কর্মস্থলে ফেরা মানুষকে পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে।
৬ ঘণ্টা লেট ট্রেন : গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় আন্তনগর ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস কমলাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছায় দুপুর ১২টার পর। প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেন পৌঁছানোয় প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা যায়।
রংপুর থেকে আসা যাত্রী ইসমাইল বলেন, সকালেই ঢাকায় পৌঁছে অফিসে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ট্রেনের এই বিলম্বে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন আরও অনেক যাত্রী। তাদের ভাষ্য, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার সময় যেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, ফিরতি পথেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়াও বিলম্ব করেছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। বেশকিছু ট্রেন আবার ঢাকায় প্রবেশ করেছে যথাসময়ে। এর মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, তিতাস এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন সময়মতো এসেছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামা, সিগন্যাল জটিলতা এবং লাইন ক্লিয়ার না থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অনেক ক্ষেত্রে একটি ট্রেন দেরি করলে তার প্রভাব পরবর্তী ট্রেনগুলোর ওপরও পড়ছে। তবে কয়েকটা ট্রেন বিলম্ব হলেও যথাসময়ে এসেছে অনেক ট্রেন। এদিকে সড়কপথের চিত্রও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানবাহন চলার খবর পাওয়া গেছে। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে মানুষের চাপ বেড়েছে।
গতকাল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কে ভিড় দেখা গেছে। নগরবাসীর উপস্থিতি আর চলাচলে ঢাকা ফিরে পেয়েছে তার চেনারূপ। সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল সকাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো একটি বাসে পা রাখার জায়গা পেলেই ছুটে যাচ্ছে তারা।
অধিকাংশ গণপরিবহনে যাত্রীর চাপে পা ফেলারও জায়গা ছিল না। গাড়ির দরজায় ঝুঁকি নিয়ে ঝুলেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে ব্যস্ততা দেখা যায় সবার মাঝে। বিগত ছুটির দিনগুলোর তুলনায় গতকাল রাজধানীতে যান চলাচলের চিত্রও ছিল চোখে পড়ার মতো। সড়কে গাড়ি ও মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে বাস পয়েন্টগুলোতে যানবাহনের জটলা ও কোথাও কোথাও গাড়ির ধীরগতি দেখা গেছে।
একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে সড়কের গতি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাজ করতে দেখা যায়। শ্যামলী বাস পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, অফিস যাওয়ার জন্য সকাল সকাল বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা। শুধু মানুষ আর মানুষ। এখন পর্যন্ত কোনো গাড়িতে উঠতে পারিনি। প্রতিটি গাড়ির গেটে মানুষ ঝুলছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী অনিক। কলেজগেট বাস পয়েন্টে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির পর দুই দিন অফিস করেছি। বিভিন্ন জায়গায় কাজে যাতায়াত করেছি। আজকে (রবিবার) পুরোটাই ভিন্ন। সে সময় সব মানুষ ঢাকায় না আসার কারণে রাস্তায় গাড়ির চাপ, মানুষের ভিড় কিছুই ছিল না। কয়দিন অফিস করেছি খুব আরামে। কিন্তু আজ (গতকাল) রাস্তায় যে অবস্থা, গাড়ির জন্য আর বেশি দেরি করলে ঠিক সময়ে অফিস যেতে পারব না।’
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ