মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইমাম নিয়োগ বিধিমালা ও বেতনকাঠামো নির্ধারণ করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপি মানুষের উপকারের রাজনীতি করে : প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে খাল খননে বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী আমি জনগণের জন্য অবশ্যই সততার সঙ্গে কিছু করব : ভূমিমন্ত্রী নারীদের অবদান যুক্ত করলে জিডিপি তিনগুণ হয়ে যেত : সিইসি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তারেক রহমানকে চিঠি, মানবাধিকার সুরক্ষায় পদক্ষেপ চায় ৯ সংগঠন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়াল, যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা গার্ডিয়ানের রিপোর্ট বদলে গেল দৃশ্যপট, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে! পবিত্র শবে কদর আজ

অফিস শেষে ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে, পথে পথে তীব্র যানজট

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

ঈদের ছুটি শুরুর আগে সারাদেশে সরকারি, আধা সরকারি অফিস-আদালতের কার্যদিবস শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সাতদিনের টানা ছুটি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সোমবার অফিস শেষ করেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। ঢাকার পথে পথে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের তেমনই চিত্র দেখা গেছে। এতে দুপুর থেকে রাজধানীর প্রায় সব সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত একাধিক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে যানজটের এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, ধানমন্ডি, পল্টন, ফার্মগেট, মিরপুর রোড, শ্যামলী, উত্তরা, মহাখালী, বনানী, রামপুরা, বাড্ডা ও মালিবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকছে। অনেক জায়গায় সিগন্যাল ছাড়লেও ধীরগতির কারণে গাড়ি এগোতে পারছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বা সিএনজিতে বসে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা।

পল্টন থেকে গাবতলী যাওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়া নাজির হোসেন বলেন, বিজয় নগর, কাকরাইল ও কারওয়ান বাজারের জ্যাম ঠেলে ফার্মগেট পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। ছুটি শুরুর আগে আজ শেষ দিনের অফিস হওয়ায় মনে হচ্ছে সব মানুষ একসঙ্গে বাড়ি যেতে রাস্তায় নেমে এসেছে।

একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান ধানমন্ডি থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী শামীম রেজা। তিনি বলেন, অফিস থেকে বের হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে আছি। গাড়ি খুব ধীরে এগোচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও প্রচণ্ড ভিড়।

অনেক যাত্রী আবার বাস না পেয়ে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এসব পরিবহনেও হঠাৎ ভাড়া বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালগুলোতে দুপুর থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগেভাগে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।

গাবতলী বাস টার্মিনালের একজন কাউন্টার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছুটি উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর যাত্রীচাপ আরও বাড়তে পারে। দূরপাল্লার বাসগুলো সময় মতো টার্মিনাল ছেড়ে গেলেও ঢাকা থেকে বের হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। আবার যানজটের কারণে ঢাকায় প্রবেশের পর টার্মিনালে পৌঁছুতেও বাসগুলোর বেশ সময় লাগছে। 

শুধু গাবতলী নয়, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও ঘরমুখো যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। মহাখালী থেকে উত্তরা সড়কে দুপুর থেকেই তীব্র যানজটের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

নগরীর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটির কারণে আজ সোমবার থেকেই অনেক মানুষ একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ছেন। এ কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ নিরলস কাজ করছে, যেন যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে।

সন্ধ্যার পর বাড়তে পারে চাপ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর আরও বেশি মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এতে রাজধানীজুড়ে যানজট আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাফিক পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর চাপ কিছুটা বাড়বে। তবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এ তারিখ ধরে আগেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচদিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি হওয়ার ফলে এবার ঈদ উপলক্ষে টানা সাতদিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবীরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ মার্চ জারি করা ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবণ্টন (কার্যপ্রণালি বিধিমালা, ১৯৯৬)-এর তফসিল অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে এ ছুটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

তবে জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও খোলা থাকবে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com