ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরের রাজপরিবারে জন্ম, কৈশোরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বাস— কে এই গায়িকা Logo ককরোচ পার্টির আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য বিপদঘণ্টা Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হতে দেবে না ইসি! Logo শিল্পকলায় রুনা লায়লার সংগীতানুষ্ঠান শুক্রবার Logo প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক Logo শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী Logo জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি Logo সরকার সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo তেজগাঁওয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যা, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ২

বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর সচলে নতুন সরকারের পানে চেয়ে ব্যবসায়ীরা

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য গত ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এক হাজার অধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন নির্বাচিত সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্য পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাদের কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী কমল বলেন, দশ মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা চরম আর্থিক সংকটে আছি। ব্যাংক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পেরে চাপের মুখে পড়েছি। গুদামে পড়ে থাকা অধিকাংশ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে, শত শত শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ কাজ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় সীমান্ত বাণিজ্য চালুর ব্যবস্থা করে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে।

শ্রমিকরা জানান, বন্দর বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে অন্যত্র কাজের সন্ধানে গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, বন্দর চালু হলে আমরা আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। গত ১০ মাস ধরে কাজ না থাকায় আমাদের সংসার প্রায় অচল হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন বন্দরে কাজ করে যা আয় করতাম, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলতো। এখন ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছি না, বাজার-সদাই করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত যদি বন্দর চালু না হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক শ্রমিক পরিবারসহ মানবেতর অবস্থায় পড়ে যাবে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি রাখাইন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নাফ নদী এলাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। সংগঠনটির বাধার কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারছেন না। কবে নাগাদ আবার সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণাও নেই। তবে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরনির্ভর মানুষজনের প্রত্যাশা, নতুন সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত বাণিজ্য পুনরায় চালু করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, টানা ১০ মাস ধরে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম সংকটে রয়েছেন। আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকের অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে এপারের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যা আদায় করতে না পারায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা হোক। বন্দর সচল হলে ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সরকারও রাজস্ব আয় থেকে উপকৃত হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা সরকারের উচ্চ মহলে অবহিত করেছি। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের রাজপরিবারে জন্ম, কৈশোরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বাস— কে এই গায়িকা

বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর সচলে নতুন সরকারের পানে চেয়ে ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ০১:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য গত ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এক হাজার অধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন নির্বাচিত সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্য পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাদের কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী কমল বলেন, দশ মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা চরম আর্থিক সংকটে আছি। ব্যাংক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পেরে চাপের মুখে পড়েছি। গুদামে পড়ে থাকা অধিকাংশ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে, শত শত শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ কাজ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় সীমান্ত বাণিজ্য চালুর ব্যবস্থা করে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে।

শ্রমিকরা জানান, বন্দর বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে অন্যত্র কাজের সন্ধানে গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, বন্দর চালু হলে আমরা আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। গত ১০ মাস ধরে কাজ না থাকায় আমাদের সংসার প্রায় অচল হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন বন্দরে কাজ করে যা আয় করতাম, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলতো। এখন ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছি না, বাজার-সদাই করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত যদি বন্দর চালু না হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক শ্রমিক পরিবারসহ মানবেতর অবস্থায় পড়ে যাবে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি রাখাইন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নাফ নদী এলাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। সংগঠনটির বাধার কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারছেন না। কবে নাগাদ আবার সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণাও নেই। তবে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরনির্ভর মানুষজনের প্রত্যাশা, নতুন সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত বাণিজ্য পুনরায় চালু করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, টানা ১০ মাস ধরে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম সংকটে রয়েছেন। আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকের অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে এপারের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যা আদায় করতে না পারায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা হোক। বন্দর সচল হলে ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সরকারও রাজস্ব আয় থেকে উপকৃত হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা সরকারের উচ্চ মহলে অবহিত করেছি। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ