ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় Logo উত্তর সিটির রিকশা ঢুকতে পারবে না দক্ষিণে : ডিএসসিসি প্রশাসক Logo গভীর রাতে পিৎজার দোকানে তিন সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ Logo ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকিতে ১৭ হাজার গর্ভবতী Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা Logo ফরিদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ৩ দিন পর খাদে মিলল কলেজছাত্রের মরদেহ

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ৯ বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই রায় দেয়।

রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ট্রাম্প ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তার কর্তৃত্ব অতিক্রম করেছেন। জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক হারে আমদানি পণ্যে শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা আইনসঙ্গত নয়।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে এমন কোনো ক্ষমতা দেয় না, যার মাধ্যমে তিনি এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

বিচারপতি রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে, যা তিনি পারেননি। মার্কিন সংবিধান কংগ্রেসকে কর এবং শুল্ক জারি করার ক্ষমতা প্রদান করে, প্রেসিডেন্টকে নয়। তবে, ট্রাম্প শুল্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে ‘লিবারেশন ডে ট্যারিফ’ নামে অভিহিত করে বিভিন্ন দেশের ওপর ‘প্রতিশোধমূলত’ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর গত আগস্ট থেকে প্রায় ৭০টি দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন তিনি।

এদিকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো– কয়েকটি দেশের জন্য শুল্কের হার গত কয়েক মাসে একাধিকার পরিবর্তনও করেছেন ট্রাম্প। এরমধ্যে ভারত ও চীনের ওপর কয়েক দফায় শুল্ক বাড়ানো হয়, পরে তা আবার কমানোও হয়। কানাডার ওপর শুল্ক বেশ কয়েকবার বাড়া-কমার পর অবশেষে তা বাড়িয়ে ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক গত কয়েক মাসে অন্তত তিন বার পাল্টানো হয়েছে। গত এপ্রিলে প্রথমে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর জুলাইতে তা কিছুটা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং সর্বশেষ চলতি মাসে এটি আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং মার্কিন রাজ্যগুলোসহ একটি জোট ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দারস্থ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক থেকে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আদায় করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য উপায়ে শুল্ক পুনর্বহাল করার চেষ্টা করবে, তাই এই রায় অস্থায়ী প্রমাণিত হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এএস

 

Tag :

হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট সময় ১১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ৯ বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই রায় দেয়।

রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ট্রাম্প ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তার কর্তৃত্ব অতিক্রম করেছেন। জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক হারে আমদানি পণ্যে শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা আইনসঙ্গত নয়।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে এমন কোনো ক্ষমতা দেয় না, যার মাধ্যমে তিনি এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

বিচারপতি রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে, যা তিনি পারেননি। মার্কিন সংবিধান কংগ্রেসকে কর এবং শুল্ক জারি করার ক্ষমতা প্রদান করে, প্রেসিডেন্টকে নয়। তবে, ট্রাম্প শুল্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে ‘লিবারেশন ডে ট্যারিফ’ নামে অভিহিত করে বিভিন্ন দেশের ওপর ‘প্রতিশোধমূলত’ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর গত আগস্ট থেকে প্রায় ৭০টি দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন তিনি।

এদিকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো– কয়েকটি দেশের জন্য শুল্কের হার গত কয়েক মাসে একাধিকার পরিবর্তনও করেছেন ট্রাম্প। এরমধ্যে ভারত ও চীনের ওপর কয়েক দফায় শুল্ক বাড়ানো হয়, পরে তা আবার কমানোও হয়। কানাডার ওপর শুল্ক বেশ কয়েকবার বাড়া-কমার পর অবশেষে তা বাড়িয়ে ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক গত কয়েক মাসে অন্তত তিন বার পাল্টানো হয়েছে। গত এপ্রিলে প্রথমে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর জুলাইতে তা কিছুটা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং সর্বশেষ চলতি মাসে এটি আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং মার্কিন রাজ্যগুলোসহ একটি জোট ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দারস্থ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক থেকে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আদায় করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য উপায়ে শুল্ক পুনর্বহাল করার চেষ্টা করবে, তাই এই রায় অস্থায়ী প্রমাণিত হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এএস