ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর Logo দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড: আইএফএফএসএ টরন্টো উৎসবে সেরা অভিনেত্রী জাইনীন Logo বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ Logo ওয়াশিংটনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান, মঞ্চ মাতাবেন সগ্নিক সেন Logo বিসিবির বিশাল চমক, ডি থ্রি ট্রফিতে আইপিলের ছোঁয়া! Logo আবু বকর যেন স্বপ্নের পুরুষ! পাকিস্তানি নাটকের প্রেমে মুগ্ধ নেটিজেনরা Logo ‘থাপ্পড়ম্যান’ শাহজালাল রুমিকে চুমুর বার্তা দিলেন নায়লা নাঈম Logo খুলনায় এবার মুদি দোকানদারকে গুলি Logo রাস্তা ও ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo শ্যামলীতে ছিনতাইয়ের শিকার সাংবাদিক এবং তার স্ত্রী

মুকুলের সমারোহে আম বাগান

গাছে গাছে বিভিন্ন জাতের আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের আম বাগানগুলো। শেষ মাঘের শীতেই জেলায় আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। সব গাছে এখনো মুকুল না এলেও যেসব গাছে এসেছে, সেগুলোতে ভালো মুকুল দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বর্তমানে বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে আমের ভালো রঙ, ফলন ও দাম পাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রপ্তানি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

দিনাজপুরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, আম্রপালি, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।

আমচাষি ফরুক হোসেন ও জহুরুল ইসলাম জানান, মুকুল আসার আগে আমগাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার কিছুটা আগেই আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুল আসার খবর পেয়ে ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা বাগানে বাগানে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকে আগাম বাগান কিনেও নিচ্ছেন।

দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকার শিক্ষক আজহার আলী বলেন, আমার আমগাছে এবারও প্রচুর মুকুল এসেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।

চাষি রহুল আমিন জানান, তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর। গত দুই বছর ধরে আগাম মুকুল আসছে। এটি গুটি জাতের আম। মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

মোহনপুর মোড় এলাকার আমগাছ মালিক রুহুল আমিন বলেন, তাঁর ২০ বছর বয়সী গুটি জাতের আমগাছে কয়েক বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে।

রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া জানান, বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

বসিরবানিয়া বড় মেরেয়াপাড়া গ্রামের আমবাগান মালিক আবু রেজা প্রামানিক বলেন, তাঁর বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তিনি প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার আটশ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও জাতভেদে আমের মুকুল আসতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো সাধারণত স্থায়ী হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর

মুকুলের সমারোহে আম বাগান

আপডেট সময় ০৩:২০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাছে গাছে বিভিন্ন জাতের আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের আম বাগানগুলো। শেষ মাঘের শীতেই জেলায় আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। সব গাছে এখনো মুকুল না এলেও যেসব গাছে এসেছে, সেগুলোতে ভালো মুকুল দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বর্তমানে বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে আমের ভালো রঙ, ফলন ও দাম পাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রপ্তানি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

দিনাজপুরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, আম্রপালি, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।

আমচাষি ফরুক হোসেন ও জহুরুল ইসলাম জানান, মুকুল আসার আগে আমগাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার কিছুটা আগেই আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুল আসার খবর পেয়ে ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা বাগানে বাগানে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকে আগাম বাগান কিনেও নিচ্ছেন।

দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকার শিক্ষক আজহার আলী বলেন, আমার আমগাছে এবারও প্রচুর মুকুল এসেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।

চাষি রহুল আমিন জানান, তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর। গত দুই বছর ধরে আগাম মুকুল আসছে। এটি গুটি জাতের আম। মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

মোহনপুর মোড় এলাকার আমগাছ মালিক রুহুল আমিন বলেন, তাঁর ২০ বছর বয়সী গুটি জাতের আমগাছে কয়েক বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে।

রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া জানান, বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

বসিরবানিয়া বড় মেরেয়াপাড়া গ্রামের আমবাগান মালিক আবু রেজা প্রামানিক বলেন, তাঁর বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তিনি প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার আটশ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও জাতভেদে আমের মুকুল আসতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো সাধারণত স্থায়ী হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ