ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo বড়পুকুরিয়ার কয়লায় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo কয়েক দিনের মধ্যে কাটবে গ্যাস সংকট: অর্থ উপদেষ্টা Logo বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ পাঠানোর অনুরোধ ত্রিবেদীর Logo আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট Logo ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: নৌমন্ত্রী Logo প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মোবাইল ভাতা Logo সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের তথ্য দুদকে পাঠাল এফবিআই Logo  সুদ ছাড়াই মিলবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ Logo গুরুত্বপূর্ণ চার সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

মুকুলের সমারোহে আম বাগান

গাছে গাছে বিভিন্ন জাতের আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের আম বাগানগুলো। শেষ মাঘের শীতেই জেলায় আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। সব গাছে এখনো মুকুল না এলেও যেসব গাছে এসেছে, সেগুলোতে ভালো মুকুল দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বর্তমানে বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে আমের ভালো রঙ, ফলন ও দাম পাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রপ্তানি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

দিনাজপুরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, আম্রপালি, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।

আমচাষি ফরুক হোসেন ও জহুরুল ইসলাম জানান, মুকুল আসার আগে আমগাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার কিছুটা আগেই আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুল আসার খবর পেয়ে ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা বাগানে বাগানে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকে আগাম বাগান কিনেও নিচ্ছেন।

দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকার শিক্ষক আজহার আলী বলেন, আমার আমগাছে এবারও প্রচুর মুকুল এসেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।

চাষি রহুল আমিন জানান, তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর। গত দুই বছর ধরে আগাম মুকুল আসছে। এটি গুটি জাতের আম। মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

মোহনপুর মোড় এলাকার আমগাছ মালিক রুহুল আমিন বলেন, তাঁর ২০ বছর বয়সী গুটি জাতের আমগাছে কয়েক বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে।

রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া জানান, বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

বসিরবানিয়া বড় মেরেয়াপাড়া গ্রামের আমবাগান মালিক আবু রেজা প্রামানিক বলেন, তাঁর বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তিনি প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার আটশ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও জাতভেদে আমের মুকুল আসতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো সাধারণত স্থায়ী হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মুকুলের সমারোহে আম বাগান

আপডেট সময় ০৩:২০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাছে গাছে বিভিন্ন জাতের আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের আম বাগানগুলো। শেষ মাঘের শীতেই জেলায় আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। সব গাছে এখনো মুকুল না এলেও যেসব গাছে এসেছে, সেগুলোতে ভালো মুকুল দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বর্তমানে বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে আমের ভালো রঙ, ফলন ও দাম পাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রপ্তানি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

দিনাজপুরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, আম্রপালি, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।

আমচাষি ফরুক হোসেন ও জহুরুল ইসলাম জানান, মুকুল আসার আগে আমগাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার কিছুটা আগেই আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুল আসার খবর পেয়ে ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা বাগানে বাগানে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকে আগাম বাগান কিনেও নিচ্ছেন।

দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকার শিক্ষক আজহার আলী বলেন, আমার আমগাছে এবারও প্রচুর মুকুল এসেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।

চাষি রহুল আমিন জানান, তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর। গত দুই বছর ধরে আগাম মুকুল আসছে। এটি গুটি জাতের আম। মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

মোহনপুর মোড় এলাকার আমগাছ মালিক রুহুল আমিন বলেন, তাঁর ২০ বছর বয়সী গুটি জাতের আমগাছে কয়েক বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে।

রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া জানান, বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

বসিরবানিয়া বড় মেরেয়াপাড়া গ্রামের আমবাগান মালিক আবু রেজা প্রামানিক বলেন, তাঁর বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তিনি প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার আটশ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও জাতভেদে আমের মুকুল আসতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো সাধারণত স্থায়ী হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ