ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী Logo ‘২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’ Logo সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যা, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়: জাহেদ উর রহমান Logo লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও স্বল্পসুদে ঋণ সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগ: শিল্পমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪ Logo গুজব প্রতিরোধে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী Logo ষড়যন্ত্র করে ভোটে হারানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল Logo শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় ১৭ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দাবি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের

বাংলাদেশে এখনো নিরাপদ ও জনবান্ধব সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বলছে, তাই নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অঙ্গীকারের কথা বলা হয়।

সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রতিষ্ঠা হয়নি। এর ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার। একইসঙ্গে অসহনীয় যানজট বিনিয়োগ ও অর্থনীতির গতিকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

এসব সমস্যার মূল কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি। এজন্য ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এর অধীনে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি পরিচালনা করা এবং কাউন্সিলকে আইন ও বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার এনে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা। যানজট কমাতে স্কুল-কলেজের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি বাস ক্রয়ে শুল্ক কমানো ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া।

সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি যেমন ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এবং রিয়েল টাইম সেফটি মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ সব ধরনের যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার করা।

দক্ষ চালক তৈরিতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ ও তাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ট্রমা কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা। থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে এসব যানবাহনের জন্য নিরাপদ সড়ক নকশা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা।

এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি ট্রাস্ট ফান্ডে বছরে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা। সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হলেও এর জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যাবশ্যক।

বাংলা৭১নিউজ/এনএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দাবি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের

আপডেট সময় ০৩:২৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে এখনো নিরাপদ ও জনবান্ধব সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বলছে, তাই নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অঙ্গীকারের কথা বলা হয়।

সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রতিষ্ঠা হয়নি। এর ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার। একইসঙ্গে অসহনীয় যানজট বিনিয়োগ ও অর্থনীতির গতিকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

এসব সমস্যার মূল কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি। এজন্য ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এর অধীনে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি পরিচালনা করা এবং কাউন্সিলকে আইন ও বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার এনে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা। যানজট কমাতে স্কুল-কলেজের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি বাস ক্রয়ে শুল্ক কমানো ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া।

সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি যেমন ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এবং রিয়েল টাইম সেফটি মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ সব ধরনের যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার করা।

দক্ষ চালক তৈরিতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ ও তাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ট্রমা কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা। থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে এসব যানবাহনের জন্য নিরাপদ সড়ক নকশা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা।

এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি ট্রাস্ট ফান্ডে বছরে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা। সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হলেও এর জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যাবশ্যক।

বাংলা৭১নিউজ/এনএস