বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন জ্বালানি খাতে সহায়তা বাড়াচ্ছে জাপান, নৌবাহিনী পাচ্ছে ৫ প্যাট্রোল বোট রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ রাত পোহালেই এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে পৌনে ১৩ লাখ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬৩ রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা, জানলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের সদর হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ চালু করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব : জুবাইদা রহমান সংবিধান সংস্কারে সুযোগ না পেলে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান ও গণিতে দুর্বলতা উদ্বেগজনক’

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভাষা ও গণনাজ্ঞান (গণিত) দুর্বল। এ দুর্বলতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা এরই মধ্যে নানান উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন। বিজ্ঞান মেলা কিংবা স্কুলভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রমে তরুণদের সৃজনশীলতা স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

সুজান ভাইজ বলেন, ২০২৩ সালের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলা ভাষায় দক্ষতা প্রয়োজনীয় মানে পৌঁছায়নি। গণিত দক্ষতার হার আরও কম। ভাষাজ্ঞান ও গণনাজ্ঞান জীবনধারণের মৌলিক দক্ষতা হলেও এতে ঘাটতি থাকাটা উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের মূল উদ্দেশ্যই হলো এ দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সবাই মিলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

 

তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে সুজান ভাইজ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। তাদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ বানানোই সময়ের দাবি।

ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজের জন্যও অপরিহার্য। এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো সমাজজুড়েই বিস্তৃত।

 

ইউনেসকোর যুব কর্মসূচির দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউনেসকো তরুণদের অংশীদার হিসেবে দেখে। তরুণরা উপদেশ শুনতে চায় না, তারা মাঠে থেকে কাজ করতে চায়, নিজেদের ধারণা দিতে চায়। দক্ষতা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তাদের। পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি কীভাবে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে তরুণদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাবও রয়েছে।

শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করলে আগামী কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব হবে উল্লেখ করে সুজান ভাইজ আরও বলেন, শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নয়, বরং তারা পরামর্শক, পরামর্শদাতা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের সহযাত্রী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইউনেসকো ও ইউনিসেফ আগামী চার বছর শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও জানান সুজান ভাইজ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেসকো কমিশনের (বিএনসিইউ) ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীর। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।

বাংলা৭১নিউজ/এআরকে

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com