
টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর শহরের বৈরাণ নদের ওপর অবস্থিত হাটবৈরাণ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে, পাটাতনে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বিম, উইং ওয়াল ও অ্যাবাটমেন্টে দেখা দিয়েছে ফাটল। এ ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের ফলে মাটি সরে গিয়ে সেতুর দুটি পিলার সম্পূর্ণ আলগা হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলজিইডি সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়েই যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। শহরসহ আশপাশের ইউনিয়নের হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন।
গোপালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, নব্বইয়ের দশকে পৌর ফান্ডের অর্থায়নে বৈরাণ নদের ওপর হাটবৈরাণ এলাকায় দুটি পৃথক সেতু নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের কারণে পশ্চিম পাশের সেতুর পিলারগুলো আলগা হয়ে নদীতে ধ্বসে পড়ে।
এরপর থেকে পূর্ব পাশের সেতুটির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বর্তমানে সেটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা দাখিল করা হলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পথচারী আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।”
হাটবৈরাণ এলাকার বাসিন্দা ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, গোপালপুর পৌর শহরের পাশাপাশি ধোপাকান্দি ও নগদাশিমলা ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে শহরে যাতায়াত করেন। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা পণ্য পরিবহন করেন, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন সেতু পারাপার হয়। বড় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও মাঝারি যান উঠলেই সেতু কেঁপে ওঠে।
সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রুবেল বলেন, “এই জীর্ণ ও বিপজ্জনক সেতু যে কোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। দ্রুত পুরোনো সেতু অপসারণ করে নতুন আরসিসি সেতু নির্মাণ করা জরুরি।”
গোপালপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, হাটবৈরাণ-ধোপাকান্দি সড়কের ওপর বৈরাণ নদের সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন আরসিসি সেতু নির্মাণে প্রায় ৩২ লাখ টাকা প্রাক্কলন ব্যয়, নকশা ও ভেটিং সম্পন্ন করে ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়। তবে অর্থাভাবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে আগারগাঁওয়ের এলজিইডি সদর দপ্তরের ‘ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প’ অফিস জানায়, বাজেট বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ভবিষ্যতে এসব সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলা৭১নিউজ/এএস