ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালাবদ্ধ কক্ষে গলাকাটা মরদেহ : ফিঙ্গারপ্রিন্টে পরিচয় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ১

সাভারের আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে পচনধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আল-আমিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মুঠোফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

পিবিআই জানায়, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় একটি বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশে খবর দেন বাড়িওয়ালা। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে ভেতর থেকে গলাকাটা পচনধরা মরদেহটি উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন দল বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কামরুল খান (৪৪)। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত গ্রামের মৃত করিম খানের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

একই দিন ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই কর্মকর্তা এম এন মোর্শেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে খুলনা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থলের বাথরুমের কমোড থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কামরুল ও আল-আমিন পূর্বপরিচিত এবং তারা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কাজের খোঁজে ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একসঙ্গে কক্ষটি ভাড়া নেন।

১৪ আগস্ট রাতে জমানো টাকা শেষ হয়ে গেলে আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন কামরুলের হাত থেকে সবজি কাটার ছুরি কেড়ে নিয়ে তার গলায় আঘাত করেন আল-আমিন। রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হলে কক্ষে তালা মেরে তিনি খুলনায় পালিয়ে যান।

পিবিআই জানায়, বাড়িওয়ালা ভাড়াটেদের এনআইডি বা মোবাইল নম্বর না রাখায় শুরুতে তদন্ত জটিল ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুতই আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

তালাবদ্ধ কক্ষে গলাকাটা মরদেহ : ফিঙ্গারপ্রিন্টে পরিচয় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ১

আপডেট সময় ০৭:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সাভারের আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে পচনধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আল-আমিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মুঠোফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

পিবিআই জানায়, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় একটি বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশে খবর দেন বাড়িওয়ালা। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে ভেতর থেকে গলাকাটা পচনধরা মরদেহটি উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন দল বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কামরুল খান (৪৪)। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত গ্রামের মৃত করিম খানের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

একই দিন ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই কর্মকর্তা এম এন মোর্শেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে খুলনা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থলের বাথরুমের কমোড থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কামরুল ও আল-আমিন পূর্বপরিচিত এবং তারা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কাজের খোঁজে ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একসঙ্গে কক্ষটি ভাড়া নেন।

১৪ আগস্ট রাতে জমানো টাকা শেষ হয়ে গেলে আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন কামরুলের হাত থেকে সবজি কাটার ছুরি কেড়ে নিয়ে তার গলায় আঘাত করেন আল-আমিন। রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হলে কক্ষে তালা মেরে তিনি খুলনায় পালিয়ে যান।

পিবিআই জানায়, বাড়িওয়ালা ভাড়াটেদের এনআইডি বা মোবাইল নম্বর না রাখায় শুরুতে তদন্ত জটিল ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুতই আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ