
মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী মামলার শুনানি আজ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) শীর্ষ আদালতে শুরু যাচ্ছে। হবে। যদিও মিয়ানমার বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হওয়া শুনানি ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলাে হয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এটিই প্রথম গণহত্যার মামলা যা পূর্ণাঙ্গভাবে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন,এই রায়ের প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তারা।
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেছেন, এদিন আদালতে গণহত্যা কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, কীভাবে তা প্রমাণ করা যায় এবং কীভাবে লঙ্ঘনের প্রতিকার করা যায় তার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে। পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজেতে (যা বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত) মামলাটি দায়ের করে, যেখানে মিয়ানমারকে প্রত্যন্ত পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী একটি অভিযান শুরু করে। যার ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়। অভিযানের রোহিঙ্গারা হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করেছেন। জাতিসংঘের একটি তথ্য-অনুসন্ধানকারী মিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে মুসলিম জঙ্গিদের আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় তাদের সামরিক অভিযান একটি বৈধ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান ছিল।
২০১৯ সালে আইসিজে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে, মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার গণহত্যার অভিযোগকে “অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
আইসিজেতে এই শুনানি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আদালতে কথিত নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের শুনানি করা হবে, যদিও সংবেদনশীলতা এবং গোপনীয়তার কারণে এই শুনানি জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে।
সোমবার সকাল ১০টা (০৯০০ জিএমটি) থেকে শুনানি শুরু হবে এবং তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।
২০২১ সালে সেনাবাহিনী নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার এবং গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকে সহিংসভাবে দমন করার পর থেকে মিয়ানমার আরও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে, যার ফলে দেশব্যাপী সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়।
বাংলা৭১নিউজ/এসএকে