ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৬-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে।

একই আইনের ধারা ৫-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান হবে। আর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্য পদত্যাগ করলে নতুন কমিশন গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করে যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনজনের নাম চূড়ান্ত করেন।

এদিকে সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কমিশন না থাকায় দুর্নীতির অভিযোগে নতুন মামলা করা, আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অর্থ-সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুদকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ থেকে কমিশন শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় কমিশন না থাকায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে দুদকের বিপুলসংখ্যক অভিযোগ ও মামলার কার্যক্রম আটকে আছে, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া বা হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া মামলা করার সুপারিশ করে শত শত অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি হলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকায় সেগুলোর ভিত্তিতে মামলা করা যাচ্ছে না। আবার অনেক মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও কমিশনের অনুমোদন ছাড়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন হওয়ায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা শিগগিরই কাটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

আপডেট সময় ১১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৬-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে।

একই আইনের ধারা ৫-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান হবে। আর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্য পদত্যাগ করলে নতুন কমিশন গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করে যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনজনের নাম চূড়ান্ত করেন।

এদিকে সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কমিশন না থাকায় দুর্নীতির অভিযোগে নতুন মামলা করা, আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অর্থ-সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুদকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ থেকে কমিশন শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় কমিশন না থাকায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে দুদকের বিপুলসংখ্যক অভিযোগ ও মামলার কার্যক্রম আটকে আছে, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া বা হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া মামলা করার সুপারিশ করে শত শত অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি হলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকায় সেগুলোর ভিত্তিতে মামলা করা যাচ্ছে না। আবার অনেক মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও কমিশনের অনুমোদন ছাড়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন হওয়ায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা শিগগিরই কাটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস