শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন

আসাম থেকে তিন মাসে দুই হাজার জনকে ‘পুশ’ করা হয়েছে বাংলাদেশে

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ১৯৫০ সালের একটি আইন ব্যবহার করে গত কয়েক মাসে প্রায় দুই হাজার জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যটির বিদেশি ট্রাইব্যুনাল কাউকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে ‘পুশ ব্যাক’ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

উচ্চতর আদালতে আপিল করে যাতে সেই ‘বিদেশি’ কালক্ষেপ না করতে পারেন, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বশর্মা। তবে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৫০ সালের আইনটি এত দিন পরে ব্যবহার করার আইনি বৈধতা আছে কি না? তাঁরা বলছেন, ওই আইন ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এখন তা প্রয়োগ করা যায় না।

আইনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবী। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে ৩১ ডিসেম্বর পাঠানো হয়েছে বলেও বিশ্বশর্মা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি এটাও বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী’দের চিহ্নিত করার পরে কিভাবে তাদের তাড়ানো হবে, এ নিয়ে আগে কোনো গাইডলাইন ছিল না। তাঁর কথায়, ‘ঘোষিত বিদেশিদের আটক শিবিরে রাখা হতো, কিন্তু তারা এত দিন জামিনে বেরিয়ে যেত।

আমরা কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছি না, আমাদের প্রয়োজন নেই। শুধু পুশ ব্যাকই বিদেশিদের মোকাবেলা করার নতুন উপায়।’ বিশ্বশর্মা যে পুরনো আইনটি ব্যবহার করছেন, সেটি তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে, ১৯৫০ সালের পয়লা মার্চ। সেটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’।

আসাম থেকে বহিষ্কারের কথা বলা হলেও এই নির্দেশ পুরো ভারতেই বলবৎ করা যাবে বলে লেখা আছে আইনটিতে। কোন তারিখের মধ্যে এবং কোন পথ দিয়ে ফেরত যেতে হবে, সেটাও নির্দিষ্ট করে দিতে হবে বহিষ্কারের নির্দেশে, লেখা আছে আইনটিতে।

আইনজীবীরা বলছেন ১৯৫০ সালের আইনটি এখন ব্যবহার করাটা অবৈধ, কারণ ওই আইন একটি বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছিল। আইনটি পদ্ধতিগতভাবে অসাংবিধানিক। গুয়াহাটি হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া বিবিসিকে বলেন, ‘১৯৫০ সালের আইনটি এখন কেন ব্যবহার করা অসাংবিধানিক বলছি আমরা, তার অনেকগুলো কারণ আছে।

আইনটির উদ্দেশ্য এবং কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখা আছে, দেশভাগের পরে অভিবাসনের জন্য একটি জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। কখনোই নিয়মিত বিতাড়নের স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না এটি। আইনটির দুই নম্বর ধারায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টির কথা বলা হয়েছে—কোনো নোটিশ দেওয়া হবে না, শুনানি হবে না বা আপিলও করা যাবে না। সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর ধারার উল্লঙ্ঘন এটা।’ তাঁর কথায়, বিদেশি আইন, নাগরিকত্ব আইন বা পাসপোর্ট আইনের পরিবর্তে কখনোই হতে পারে না ১৯৫০ সালের আইনটি।

গুয়াহাটি হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘যে পুরনো আইনটি ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে, তা দিয়ে পুশ ব্যাক করাই যায় না। ট্রাইব্যুনালগুলোকে এড়িয়ে এক্সিকিউটিভ অর্ডার দিয়ে এখান থেকে পুশ ব্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু যে বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলোকে এড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে তা না। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পরে তো কেউ হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারেন, আপিল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পুরো বিচারব্যবস্থাকেই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা অসাংবিধানিক।’

মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস বা সিজেপির আসাম রাজ্য ইনচার্জ পারিজাত নন্দ ঘোষ বিবিসিকে বলেন, ‘যে প্রায় দুই হাজার মানুষকে পুশ ব্যাক করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, তাদের তালিকা কোথায়? এদের মধ্যে যে কোনো ভারতীয় নাগরিক নেই, সেই নিশ্চয়তা কোথায়? এর আগেও তো আমরা দেখেছি যে রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া মানুষদের অনেককে আবার ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অর্থাৎ তারা প্রকৃতই ভারতের নাগরিক ছিলেন!’

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com