ময়মনসিংহের বাসিন্দা দীপু দাসের খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হয়েছে ভারতে। প্রায় প্রতিদিনই দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ-কর্মসূচি হচ্ছে। বাংলাদেশের দূতাবাস বা উপদূতাবাসগুলির বাইরে আছড়ে পড়ছে বিক্ষোভ, যা নিয়ে দু’দেশের সম্পর্কে চাপানউতর চলছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। একইসাথে বাংলাদেশি অতিথিরা থাকতে পারবেন না পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলার হোটেলে। উত্তরবঙ্গের তিন জেলার হোটেল কর্তৃপক্ষ এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি সেঁটে দিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া
অশান্ত বাংলাদেশে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগপ্রকাশ করেছে মোদী সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের হাতে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ-সহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অবিরাম হামলা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।’’ ‘‘আমরা সকলেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত। আমরা বিষয়টি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কী ছিল, কী হওয়া উচিত এবং কী হবে, সে বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে অবহিত করছি।’’ বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জও। দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে নয়াদিল্লি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছিল। বুধবার গভীর রাতে ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ি জেলায় পিটিয়ে মারা হয় স্থানীয় যুবক অমৃতকে। সেই ঘটনার আবার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে ভারত।
‘বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ’
বাংলাদেশি অতিথিরা থাকতে পারবেন না পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলার হোটেলে। ভারত সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তরবঙ্গের তিন জেলার হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলে হোটেলে ওই মর্মে বিজ্ঞপ্তি সেঁটে দিচ্ছেন তাঁরা। হোটেলমালিকদের কারও কারও দাবি, যেখানে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে সে দেশের কাউকে হোটেলে থাকতে দিলে সমস্যায় পড়তে পারেন তাঁরা। বড় অংশের হোটেলমালিকেরা বলছেন, প্রতিবাদ জানাতেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলঅইন