বায়ো-ক্যাপসুলের একটি উন্নত সংস্করণ ডিজাইন ও নির্মাণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইরান। আগামী বছরে এটি পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ইরানের মহাকাশ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের।
ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ বলেছেন, সংস্থার আপগ্রেড করা বায়ো-ক্যাপসুলটি নকশা এবং উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথম উৎক্ষেপণটি হবে সাবঅরবিটাল এবং এর লক্ষ্য হবে শুধুমাত্র প্রাথমিক পরীক্ষা পরিচালনা করা এবং ক্যাপসুলের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শন করা।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন,প্রায় দুই বছর আগে ৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি জৈব-ক্যাপসুল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এরপরই নতুন প্রজন্মের বায়ো-ক্যাপসুল নিয়ে কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক নকশায় প্রায় ১,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি শ্রেণী লক্ষ্য করা হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত গবেষণা এবং পুনর্গঠনের পর প্রকল্পটি এখন প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি অপ্টিমাইজড কনফিগারেশনে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।
ওজন কমানো হলেও নতুন ক্যাপসুলটি আগের মডেলের তুলনায় অনেক উন্নত। বিশেষ করে আয়তন, ওজন ব্যবস্থাপনা, গাইডেন্স, কন্ট্রোল এবং ন্যাভিগেশন সিস্টেমের ক্ষেত্রে এটি বড় অগ্রগতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সালারিয়েহ বলেন, ‘বায়ো-ক্যাপসুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হলো এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে জীবন্ত অর্গানিজম বা সম্ভাব্য মানুষের বহনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ‘ নিরাপদ, নির্ভুল ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ল্যান্ডিং সক্ষমতাও বায়ো-ক্যাপসুলের অপরিহার্য শর্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাপসুলটি বিভিন্ন পরিস্থিতি ও মাত্রায় জৈবিক পেলোড বহনের উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে মানুষের বহনযোগ্যতা বিবেচনায় রাখা হলেও প্রাথমিক উৎক্ষেপণে কোনো জীবন্ত প্রাণী থাকবে না। প্রথমে একাধিক পরীক্ষামূলক মিশনের মাধ্যমে ক্যাপসুলটির পূর্ণ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করা হবে।’
জীবন্ত অর্গানিজম বহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পরিবেশ ও ত্বরণ সহনীয়তা নিশ্চিত করাও এই প্রকল্পের বড় লক্ষ্য। ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান আরও জানান, উন্নত বায়ো-ক্যাপসুলটি দেশীয়ভাবে নির্মিত নতুন উৎক্ষেপণযানে পাঠানো হবে। আগে ব্যবহৃত “সালমান” লঞ্চারের পরিবর্তে এবার নতুন ও বেশি শক্তিসম্পন্ন তরল জ্বালানিচালিত লঞ্চার ডিজাইন করা হচ্ছে, কারণ নতুন ক্যাপসুলের ওজন বেশি হয়েছে।
ক্যাপসুল ও উপ-ব্যবস্থার উন্নয়ন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সালারিয়েহ। তিনি বলেন, মহাকাশ প্রকল্পে নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ কঠিন, কারণ প্রযুক্তিগত বিলম্ব হতে পারে। তবে, বর্তমান হিসেব অনুযায়ী আগামী ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্ভব।
বাংলা৭১নিউজ/এসএম