ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ক্ষমতার লোভে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করেছে জামায়াত: চরমোনাই পীর Logo চুয়েটের রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি Logo রেডি হও জামায়াত, পাকিস্তানই তোমাদের উপযুক্ত জায়গা: সাবেক এমপি পাপিয়া Logo মিরপুরে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে ফের হামলার অভিযোগ, আটক ১৪ Logo ৭ নভেম্বরকে ‘স্বাধীনতা রক্ষার দিন’ বললেন রুহুল কবির রিজভী Logo মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর Logo দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাংবাদিকসহ আহত ১০ Logo সানার ভয়াবহ বিমান হামলা: ২২ জন নিহত, ৩০ আহত Logo কোনো ডিসেম্বরেই ‘আপা’ আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁ’সির মঞ্চ প্রস্তুত: নাহিদ ইসলাম Logo বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’

দীপাবলির দিয়ার তৈরিতে ব্যস্ততা কুমারপাড়ার ঘরে ঘরে

দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। অন্ধকার দূর করে আলোকিত হয়ে ওঠে ঘরবাড়ি, মন্দির ও এর চারপাশ।

আলোর উৎসবকে সামনে রেখে মাটির প্রদীপের শলতে রাখার পাত্র বা দিয়ার তৈরিতে এখন ভীষণ ব্যস্ত রংপুরের কুমারপাড়ার কারিগররা।

দিন-রাত এক করে চলছে মাটি সংগ্রহ, মাটি প্রস্তুত এবং প্রদীপের শলতে রাখার পাত্র তৈরি করে তা রোদে শুকানোর কাজ। বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত জেলার আট উপজেলার প্রায় ৫০০ পাল পরিবার।

রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ এবং গঙ্গাচড়ার পালপাড়া ঘুরে চোখে পড়েছে এই ব্যস্ততার চিত্র।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রংপুর নগরীর কালীবাড়ি মন্দিরের পাশে বসেছে প্রদীপের উপকরণ বেচাকেনার হাট। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কালীপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে চারদিকে এখন সাজসাজ রব।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুর বধের সময় দেবী দুর্গার ভ্রু বা ক্রোধ থেকে দেবী কালীর আবির্ভাব ঘটে।

তন্ত্রশাস্ত্র ও ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সপ্তদশ শতকে নবদ্বীপের তান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ বাংলায় প্রথম কালীমূর্তি ও তার পূজা প্রবর্তন করেন।

পরে অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এবং ঊনবিংশ শতকে ধনী জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা, সাধক রামরামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের মাধ্যমে এই পূজার তাৎপর্য ও ভাবমূর্তি ছড়িয়ে পড়ে।

অশুভ শক্তির বিনাশ, কর্ম, জ্ঞান ও ত্যাগের বার্তার পাশাপাশি দীপাবলির রাতে মধ্যরাতে মৃন্ময়ী প্রতিমায় আলোকসজ্জা ও প্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ আজো অটুট রয়েছে।

প্রতিবছর এই উৎসব ঘিরে রংপুরের ৫০০ পাল পরিবার তৈরি করে মাটির প্রদীপের শলতে রাখার পাত্র। অথচ উৎসবের আলো ছড়ানো কারিগরদের নিজেদের ঘরেই অভাবের অন্ধকার।

কুমার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ, শ্রমের তুলনায় কম মুনাফা এবং বৈদ্যুতিক আলোর জনপ্রিয়তায় কমছে মাটির প্রদীপের চাহিদাও।

তবু পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে থেমে নেই তাদের কর্মযজ্ঞ।

পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া-আট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাটির প্রদীপের পাত্র তৈরির কর্মযজ্ঞ। তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ, শ্রমের তুলনায় কম মুনাফা এবং বৈদ্যুতিক আলোর জনপ্রিয়তায় দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে তাদের জীবন-জীবিকা।

সম্প্রতি গঙ্গাচড়া উপজেলার পালপাড়ায় গেলে চোখে পড়ে সেখানকার বাসিন্দাদের ব্যস্ততার চিত্র। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করছেন প্রদীপের পাত্র, আবার কেউ রোদে শুকানো পাত্র সাজিয়ে রাখছেন বিক্রির জন্য। এ কাজে অনেকের মতো ব্যস্ত আলো রাণী পালও।

প্রতিবছর তিনি তৈরি করেন ১২ থেকে ১৫ হাজার প্রদীপ। বাবার বাড়িতে শুরু হওয়া এই কাজ বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতেও ধরে রেখেছেন। তবে এত পরিশ্রমের পরও সংসারের অভাব কাটছে না।

আলো রাণী পালের ভাষ্য, ‘বাপের বাড়ি থেকেই প্রদীপের পাত্র তৈরির কাজ শিখেছি। এখন স্বামীর বাড়িতে এসেও সেই কাজ করছি। প্রতিবছর অনেক প্রদীপ তৈরি করি, কিন্তু মাটির দাম, অন্যান্য খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুব বেশি থাকে না। তবু বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু গঙ্গাচড়া উপজেলায়ই রয়েছে প্রায় ৫০টি পাল পরিবার। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ শ পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস মাটির দিয়ার তৈরি।

কারিগররা বলছেন, তারা প্রতিবছর তাদের হাতে দিয়ার তৈরি হলেও এর উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। মাটি সংগ্রহ ও পরিবহন, জ্বালানি এবং শ্রমিকের মজুরি-সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক বাতি ও আধুনিক আলোকসজ্জার কারণে কমছে মাটির প্রদীপের চাহিদা।

এদিকে, কালীপূজা ও দীপাবলি ঘিরে জেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপের সামনে বসেছে মাটির প্রদীপের উপকরণ বেচাকেনার হাট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। বিভিন্ন আকার ও নকশার প্রদীপপাত্র কিনছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

প্রদীপ কিনতে আসা পুষ্পচন্দন পালের ভাষায়, ‘দীপাবলির মূল আকর্ষণই হচ্ছে প্রদীপের আলো। মাটির প্রদীপ জ্বালানোর মধ্যে ঐতিহ্য ও আনন্দ রয়েছে। তাই প্রতিবছরই আমরা প্রদীপ কিনি। এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়।’

হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দীপাবলির প্রদীপের আলো অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করে মানুষের জীবনে শান্তি ও মঙ্গল বয়ে আনে। তাই আধুনিক আলোকসজ্জার মধ্যে মাটির প্রদীপের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। তবে যে কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় এই আলোর উপকরণ, তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকার মন্টু পাল বলেন, ‘আমরা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছি, কিন্তু দিন দিন খরচ বাড়ছে, সে তুলনায় প্রদীপের দাম বাড়ছে না। অনেক সময় পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্যও পাওয়া যায় না। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই পেশা ধরে রাখা সহজ হতো।’

এ ব্যাপারে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, মাটির প্রদীপের উপকরণ তৈরির কারিগররা আমাদের কাছে আবেদন করলে বিষয়টি দেখা হবে; তাদের সমস্যাগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার লোভে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করেছে জামায়াত: চরমোনাই পীর

দীপাবলির দিয়ার তৈরিতে ব্যস্ততা কুমারপাড়ার ঘরে ঘরে

আপডেট সময় ০৭:৩৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। অন্ধকার দূর করে আলোকিত হয়ে ওঠে ঘরবাড়ি, মন্দির ও এর চারপাশ।

আলোর উৎসবকে সামনে রেখে মাটির প্রদীপের শলতে রাখার পাত্র বা দিয়ার তৈরিতে এখন ভীষণ ব্যস্ত রংপুরের কুমারপাড়ার কারিগররা।

দিন-রাত এক করে চলছে মাটি সংগ্রহ, মাটি প্রস্তুত এবং প্রদীপের শলতে রাখার পাত্র তৈরি করে তা রোদে শুকানোর কাজ। বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত জেলার আট উপজেলার প্রায় ৫০০ পাল পরিবার।

রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ এবং গঙ্গাচড়ার পালপাড়া ঘুরে চোখে পড়েছে এই ব্যস্ততার চিত্র।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রংপুর নগরীর কালীবাড়ি মন্দিরের পাশে বসেছে প্রদীপের উপকরণ বেচাকেনার হাট। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কালীপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে চারদিকে এখন সাজসাজ রব।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুর বধের সময় দেবী দুর্গার ভ্রু বা ক্রোধ থেকে দেবী কালীর আবির্ভাব ঘটে।

তন্ত্রশাস্ত্র ও ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সপ্তদশ শতকে নবদ্বীপের তান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ বাংলায় প্রথম কালীমূর্তি ও তার পূজা প্রবর্তন করেন।

পরে অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এবং ঊনবিংশ শতকে ধনী জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা, সাধক রামরামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের মাধ্যমে এই পূজার তাৎপর্য ও ভাবমূর্তি ছড়িয়ে পড়ে।

অশুভ শক্তির বিনাশ, কর্ম, জ্ঞান ও ত্যাগের বার্তার পাশাপাশি দীপাবলির রাতে মধ্যরাতে মৃন্ময়ী প্রতিমায় আলোকসজ্জা ও প্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ আজো অটুট রয়েছে।

প্রতিবছর এই উৎসব ঘিরে রংপুরের ৫০০ পাল পরিবার তৈরি করে মাটির প্রদীপের শলতে রাখার পাত্র। অথচ উৎসবের আলো ছড়ানো কারিগরদের নিজেদের ঘরেই অভাবের অন্ধকার।

কুমার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ, শ্রমের তুলনায় কম মুনাফা এবং বৈদ্যুতিক আলোর জনপ্রিয়তায় কমছে মাটির প্রদীপের চাহিদাও।

তবু পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে থেমে নেই তাদের কর্মযজ্ঞ।

পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া-আট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাটির প্রদীপের পাত্র তৈরির কর্মযজ্ঞ। তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ, শ্রমের তুলনায় কম মুনাফা এবং বৈদ্যুতিক আলোর জনপ্রিয়তায় দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে তাদের জীবন-জীবিকা।

সম্প্রতি গঙ্গাচড়া উপজেলার পালপাড়ায় গেলে চোখে পড়ে সেখানকার বাসিন্দাদের ব্যস্ততার চিত্র। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করছেন প্রদীপের পাত্র, আবার কেউ রোদে শুকানো পাত্র সাজিয়ে রাখছেন বিক্রির জন্য। এ কাজে অনেকের মতো ব্যস্ত আলো রাণী পালও।

প্রতিবছর তিনি তৈরি করেন ১২ থেকে ১৫ হাজার প্রদীপ। বাবার বাড়িতে শুরু হওয়া এই কাজ বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতেও ধরে রেখেছেন। তবে এত পরিশ্রমের পরও সংসারের অভাব কাটছে না।

আলো রাণী পালের ভাষ্য, ‘বাপের বাড়ি থেকেই প্রদীপের পাত্র তৈরির কাজ শিখেছি। এখন স্বামীর বাড়িতে এসেও সেই কাজ করছি। প্রতিবছর অনেক প্রদীপ তৈরি করি, কিন্তু মাটির দাম, অন্যান্য খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুব বেশি থাকে না। তবু বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু গঙ্গাচড়া উপজেলায়ই রয়েছে প্রায় ৫০টি পাল পরিবার। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ শ পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস মাটির দিয়ার তৈরি।

কারিগররা বলছেন, তারা প্রতিবছর তাদের হাতে দিয়ার তৈরি হলেও এর উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। মাটি সংগ্রহ ও পরিবহন, জ্বালানি এবং শ্রমিকের মজুরি-সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক বাতি ও আধুনিক আলোকসজ্জার কারণে কমছে মাটির প্রদীপের চাহিদা।

এদিকে, কালীপূজা ও দীপাবলি ঘিরে জেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপের সামনে বসেছে মাটির প্রদীপের উপকরণ বেচাকেনার হাট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। বিভিন্ন আকার ও নকশার প্রদীপপাত্র কিনছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

প্রদীপ কিনতে আসা পুষ্পচন্দন পালের ভাষায়, ‘দীপাবলির মূল আকর্ষণই হচ্ছে প্রদীপের আলো। মাটির প্রদীপ জ্বালানোর মধ্যে ঐতিহ্য ও আনন্দ রয়েছে। তাই প্রতিবছরই আমরা প্রদীপ কিনি। এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়।’

হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দীপাবলির প্রদীপের আলো অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করে মানুষের জীবনে শান্তি ও মঙ্গল বয়ে আনে। তাই আধুনিক আলোকসজ্জার মধ্যে মাটির প্রদীপের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। তবে যে কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় এই আলোর উপকরণ, তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকার মন্টু পাল বলেন, ‘আমরা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছি, কিন্তু দিন দিন খরচ বাড়ছে, সে তুলনায় প্রদীপের দাম বাড়ছে না। অনেক সময় পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্যও পাওয়া যায় না। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই পেশা ধরে রাখা সহজ হতো।’

এ ব্যাপারে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, মাটির প্রদীপের উপকরণ তৈরির কারিগররা আমাদের কাছে আবেদন করলে বিষয়টি দেখা হবে; তাদের সমস্যাগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ