ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ Logo ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা Logo কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে ১০ নভেম্বর তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo হত্যা মামলায় সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে Logo নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী Logo বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্ত সাড়ে ৭৬ কোটি মানুষ, ৯৯ শতাংশই নিম্ন আয়ের দেশে Logo এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন Logo এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার ২ দিনের রিমান্ড Logo হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন : রিজভী

চূড়ান্ত ধাপের বিচার শেষ করতে দ্রুত শুনানির চেষ্টায় আসামিপক্ষ

দেড় দশক আগে ঢাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআররের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, সেই ঘটনার মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মামলার আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে। আসামিপক্ষ চেষ্টায় আছে আলোচিত এ মামলার আপিল-লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানি করার জন্য। এ ব্যপারে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরে বিদ্রোহ দেখা দেয়।

সে বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হাতে মারা যান ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। তখন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল জওয়ানদের বিদ্রোহ। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম বদলে পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।

এ বিদ্রোহের ৫৭টি মামলার বিচার বাহিনীর নিজস্ব আদালতে শেষ হয়। সে বিচারে ছয় হাজার জওয়ানের কারাদণ্ড হয়। বিদ্রোহের বিচারের পর ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ ও ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে’ মামলার বিচার শুরু হয় দেশের প্রচলিত আদালতে।

হত্যাকাণ্ডের মামরায় ঢাকার জজ আদালত ২০১৩ সালে রায় দেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

এ ছাড়া ২৫৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আর খালাস দেওয়া হয় ২৭৮ জনকে। বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।

পরে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স (বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ। বিচারিক আদালতের রায়ে খালাস দেওয়া ২৭৮ জনের মধ্যে ৬৯ জনের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও ডেথ রেফারেন্সর শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৫২ জনের মধ্যে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন। আর ৫ আসামিকে খালাস দেন উচ্চ আদালত।

অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দেওয়া ১৬০ আসামির মধ্যে হাইকোর্ট ১৪৬ আসামির সাজা বহাল রেখে ১৪ জনকে খালাস দেন। আর বিচারিক আদালতের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৬৯টি আপিলের মধ্যে ৩১ জানের খালাস বাতিল করে তাদের যাবজ্জীবন ও চারজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

বাকি ৩৪ জনের ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়। সব মিলিয়ে ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ৪ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫৩ জনকে খালাস দেন উচ্চ আদালত।

রায়ে বলা হয়, ওই ঘটনা (বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড) ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা। হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৫৯ জন আসামি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের রায়ের তিন বছর পর ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেলেও ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি তোলার খরচ, অনুলিপি পাওয়ার প্রক্রিয়া, আপিলের পেপারবুক তৈরিতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর। গত বছর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ আপিলের সারসংক্ষেপ (কনসাইজ স্টেটমেন্ট) জমা দিলেও এখন পর্যন্ত শুনানি শুরু হয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য মতে, হাইকোর্টের রায়ে খালাস দেওয়া হয়েছে বা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন হয়েছে এমন আসামিদের সাজা বাড়াতে ৩১টি লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া ৭৫ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৯ জনের শাস্তি বাড়ানোর আরজি রয়েছে এসব লিভ টু আপিলে।

আর আসামিপক্ষের এক আইনজীবী বলেছেন, ২২৬ জনের পক্ষে আপিল-লিভ টু আপিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি আপিল হচ্ছে ১৩৯টি। বাকিগুলো লিভ টু আপিল। তবে লিভ টু আপিলের প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেনি আসামিপক্ষ।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, আসামিপক্ষের আপিল ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এরপর আসামিপক্ষের আপিল গত বছরের ২৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। আসামিদের এই আপিল ১৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৪০৫ নম্বর ক্রমিকে ছিল।

এ মামলায় ২২৬ আসামির পক্ষের আইজীবী ছিলেন মো. আমিনুল ইসলাম; যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। এই পদে থেকে আসামিপক্ষের হয়ে মামলা লড়ার সুযোগ আছে কিনা, জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু এত বড় একটি মামলা। এই মামলায় শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কাছে অনুমতি চাইব। আশা করি আপিল বিভাগ অনুমতি দেবেন।’

তবে আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই মামলায় আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী আইনজীবী সুলতানা আক্তার রুবি। এই আইনজীবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলাটির শুনানি করার জন্য।’

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ

পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনা যেমন পুরো বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল, তেমনি এক মামলায় এত আসামির সর্বোচ্চ সাজার আদেশও ছিল নজিরবিহীন। ওই ঘটনায় দুটি মামলার মধ্যে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে হত্যা মামলার রায় হলেও ১৬ বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিচারকাজ।

প্রায় ১৭ বছর আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় শতাধিক আসামি জামিন হয় গত ১৯ জানুয়ারি। ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর তিনদিন পর তাদের কারামুক্তি ঘটে।

জানতে চাইলে পিপি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হত্যা মামলায় খালাস বা সাজাভোগ শেষে বিস্ফোরক মামলার কারণে ৪৬৮ বিডিআর সদস্যের মুক্তি আটকে ছিল। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় বেশিরভাগ আসামিরই জামিন হয়েছে। আরো জামিন আবেদন রয়েছে।’

সরকারের এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি বা সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য আছে বলে জানান বোরহান উদ্দিন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ

চূড়ান্ত ধাপের বিচার শেষ করতে দ্রুত শুনানির চেষ্টায় আসামিপক্ষ

আপডেট সময় ০৬:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেড় দশক আগে ঢাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআররের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, সেই ঘটনার মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মামলার আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে। আসামিপক্ষ চেষ্টায় আছে আলোচিত এ মামলার আপিল-লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানি করার জন্য। এ ব্যপারে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরে বিদ্রোহ দেখা দেয়।

সে বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হাতে মারা যান ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। তখন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল জওয়ানদের বিদ্রোহ। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম বদলে পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।

এ বিদ্রোহের ৫৭টি মামলার বিচার বাহিনীর নিজস্ব আদালতে শেষ হয়। সে বিচারে ছয় হাজার জওয়ানের কারাদণ্ড হয়। বিদ্রোহের বিচারের পর ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ ও ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে’ মামলার বিচার শুরু হয় দেশের প্রচলিত আদালতে।

হত্যাকাণ্ডের মামরায় ঢাকার জজ আদালত ২০১৩ সালে রায় দেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

এ ছাড়া ২৫৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আর খালাস দেওয়া হয় ২৭৮ জনকে। বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।

পরে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স (বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ। বিচারিক আদালতের রায়ে খালাস দেওয়া ২৭৮ জনের মধ্যে ৬৯ জনের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও ডেথ রেফারেন্সর শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৫২ জনের মধ্যে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন। আর ৫ আসামিকে খালাস দেন উচ্চ আদালত।

অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দেওয়া ১৬০ আসামির মধ্যে হাইকোর্ট ১৪৬ আসামির সাজা বহাল রেখে ১৪ জনকে খালাস দেন। আর বিচারিক আদালতের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৬৯টি আপিলের মধ্যে ৩১ জানের খালাস বাতিল করে তাদের যাবজ্জীবন ও চারজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

বাকি ৩৪ জনের ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়। সব মিলিয়ে ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ৪ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫৩ জনকে খালাস দেন উচ্চ আদালত।

রায়ে বলা হয়, ওই ঘটনা (বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড) ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা। হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৫৯ জন আসামি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের রায়ের তিন বছর পর ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেলেও ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি তোলার খরচ, অনুলিপি পাওয়ার প্রক্রিয়া, আপিলের পেপারবুক তৈরিতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর। গত বছর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ আপিলের সারসংক্ষেপ (কনসাইজ স্টেটমেন্ট) জমা দিলেও এখন পর্যন্ত শুনানি শুরু হয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য মতে, হাইকোর্টের রায়ে খালাস দেওয়া হয়েছে বা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন হয়েছে এমন আসামিদের সাজা বাড়াতে ৩১টি লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া ৭৫ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৯ জনের শাস্তি বাড়ানোর আরজি রয়েছে এসব লিভ টু আপিলে।

আর আসামিপক্ষের এক আইনজীবী বলেছেন, ২২৬ জনের পক্ষে আপিল-লিভ টু আপিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি আপিল হচ্ছে ১৩৯টি। বাকিগুলো লিভ টু আপিল। তবে লিভ টু আপিলের প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেনি আসামিপক্ষ।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, আসামিপক্ষের আপিল ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এরপর আসামিপক্ষের আপিল গত বছরের ২৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। আসামিদের এই আপিল ১৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৪০৫ নম্বর ক্রমিকে ছিল।

এ মামলায় ২২৬ আসামির পক্ষের আইজীবী ছিলেন মো. আমিনুল ইসলাম; যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। এই পদে থেকে আসামিপক্ষের হয়ে মামলা লড়ার সুযোগ আছে কিনা, জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু এত বড় একটি মামলা। এই মামলায় শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কাছে অনুমতি চাইব। আশা করি আপিল বিভাগ অনুমতি দেবেন।’

তবে আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই মামলায় আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী আইনজীবী সুলতানা আক্তার রুবি। এই আইনজীবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলাটির শুনানি করার জন্য।’

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ

পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনা যেমন পুরো বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল, তেমনি এক মামলায় এত আসামির সর্বোচ্চ সাজার আদেশও ছিল নজিরবিহীন। ওই ঘটনায় দুটি মামলার মধ্যে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে হত্যা মামলার রায় হলেও ১৬ বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিচারকাজ।

প্রায় ১৭ বছর আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় শতাধিক আসামি জামিন হয় গত ১৯ জানুয়ারি। ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর তিনদিন পর তাদের কারামুক্তি ঘটে।

জানতে চাইলে পিপি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হত্যা মামলায় খালাস বা সাজাভোগ শেষে বিস্ফোরক মামলার কারণে ৪৬৮ বিডিআর সদস্যের মুক্তি আটকে ছিল। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় বেশিরভাগ আসামিরই জামিন হয়েছে। আরো জামিন আবেদন রয়েছে।’

সরকারের এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি বা সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য আছে বলে জানান বোরহান উদ্দিন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ