ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন অ্যাপ ‘ভূমি দৃষ্টি’

কীভাবে কাজ করবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন অ্যাপ ‘ভূমিদৃষ্টি’

ভূমি সেবা মাঠ পর্যায়ে অধিকতর গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করার জন্য দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত অফিস এলাকায় অবস্থান করে তবেই হাজিরা প্রদান করতে হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এতে অফিসের বাইরে অবস্থান করে ভুয়া লোকেশন ব্যবহার করে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করলে তা নজরে আসবে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় অ্যাপটির। অনুষ্ঠানে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। আর অ্যাপটি তৈরির পেছনে কারিগরি সহযোগিতা করেছে পারাল্যাক্সলজিক ইনফোটেক (PLX)।

ভূমি দৃষ্টি অ্যাপের কাজের ধরন:
অ্যাপটির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি। সহজভাবে, প্রতিটি ভূমি অফিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভার্চ্যুয়াল সীমানা তৈরি করা থাকবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই সীমানার ভেতর অবস্থান করলে তবেই মোবাইল ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে তার হাজিরা দিতে পারবেন। অর্থাৎ, শুধু ফোন থেকে অ্যাপ খুলে চেক-ইন করলেই তার হাজিরা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস এলাকার মধ্যে থাকতে হবে।

অফিস এলাকার বাইরে থেকে হাজিরা দিলে:
অ্যাপটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে―ভুয়া লোকেশন শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত অফিস এলাকার বাইরে থেকে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করা হলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। কেউ ভুয়া লোকেশন ব্যবহার করে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট চলে যাবে।

অফিসের কাজে বাইরে গেলে:
কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসের কাজের জন্য স্বাভাবিকভাবেই অফিসের কাজে বাইরে যেতে পারে। সবসময় অফিসের ভেতরে অবস্থান সম্ভব হয়ে পড়ে না। তদন্ত, সরকারি দায়িত্ব বা মাঠপরিদর্শনের মতো কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য এটিও রাখা হয়েছে অ্যাপটিতে।

দাপ্তরিক কাজে অফিসের বাইরে গেলে ‘সাইট ভিজিট’ ফিচারের মাধ্যমে বাইরে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। এতে অফিসের বাইরে অবস্থান করলে বিষয়টি দাপ্তরিক কাজের অংশ কি-না, তা ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত হয়ে থাকবে। এছাড়া অ্যাপের মাধ্যমেই ছুটির জন্য আবেদন করা যাবে। ছুটির সব তথ্য ও হিসাবও ডিজিটালভাবে অ্যাপটিতে সংরক্ষণ থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ৬ জেলায়:
প্রাথমিকভাবে দেশের ছয় জেলার ৬১০টি ভূমি কার্যালয়ে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপটির পাইলট কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম। এই পর্যায়ে ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অ্যাপটির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পরবর্তীতে দেশের সব বিভাগীয় জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অ্যাপটি সম্প্রসারণে পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন অ্যাপ ‘ভূমি দৃষ্টি’

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূমি সেবা মাঠ পর্যায়ে অধিকতর গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করার জন্য দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত অফিস এলাকায় অবস্থান করে তবেই হাজিরা প্রদান করতে হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এতে অফিসের বাইরে অবস্থান করে ভুয়া লোকেশন ব্যবহার করে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করলে তা নজরে আসবে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় অ্যাপটির। অনুষ্ঠানে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। আর অ্যাপটি তৈরির পেছনে কারিগরি সহযোগিতা করেছে পারাল্যাক্সলজিক ইনফোটেক (PLX)।

ভূমি দৃষ্টি অ্যাপের কাজের ধরন:
অ্যাপটির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি। সহজভাবে, প্রতিটি ভূমি অফিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভার্চ্যুয়াল সীমানা তৈরি করা থাকবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই সীমানার ভেতর অবস্থান করলে তবেই মোবাইল ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে তার হাজিরা দিতে পারবেন। অর্থাৎ, শুধু ফোন থেকে অ্যাপ খুলে চেক-ইন করলেই তার হাজিরা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস এলাকার মধ্যে থাকতে হবে।

অফিস এলাকার বাইরে থেকে হাজিরা দিলে:
অ্যাপটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে―ভুয়া লোকেশন শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত অফিস এলাকার বাইরে থেকে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করা হলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। কেউ ভুয়া লোকেশন ব্যবহার করে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট চলে যাবে।

অফিসের কাজে বাইরে গেলে:
কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসের কাজের জন্য স্বাভাবিকভাবেই অফিসের কাজে বাইরে যেতে পারে। সবসময় অফিসের ভেতরে অবস্থান সম্ভব হয়ে পড়ে না। তদন্ত, সরকারি দায়িত্ব বা মাঠপরিদর্শনের মতো কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য এটিও রাখা হয়েছে অ্যাপটিতে।

দাপ্তরিক কাজে অফিসের বাইরে গেলে ‘সাইট ভিজিট’ ফিচারের মাধ্যমে বাইরে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। এতে অফিসের বাইরে অবস্থান করলে বিষয়টি দাপ্তরিক কাজের অংশ কি-না, তা ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত হয়ে থাকবে। এছাড়া অ্যাপের মাধ্যমেই ছুটির জন্য আবেদন করা যাবে। ছুটির সব তথ্য ও হিসাবও ডিজিটালভাবে অ্যাপটিতে সংরক্ষণ থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ৬ জেলায়:
প্রাথমিকভাবে দেশের ছয় জেলার ৬১০টি ভূমি কার্যালয়ে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপটির পাইলট কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম। এই পর্যায়ে ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অ্যাপটির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পরবর্তীতে দেশের সব বিভাগীয় জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অ্যাপটি সম্প্রসারণে পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস