ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল, সংসদে বিতর্ক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। চার কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও উত্থাপন করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত, সংঘবদ্ধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ-দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, র‍্যাবের সব জনবল, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, দায়, চুক্তি ও নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাবের ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা কার্যকর থাকবে।

এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এটি গঠিত হবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এর মহাপরিচালক হবেন।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণ ও সদস্যদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

সংসদে বিতর্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের কারণে র‍্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল, এমনকি বিএনপিও র‍্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তিনি বলেন, র‍্যাব ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এটি বিলুপ্ত করা উচিত। নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের আগে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন উপদেষ্টা পরিষদে তিনি এ প্রস্তাব দিলে ভালো হতো। কিন্তু ১৮ মাসে তার এ কথা মনে হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। এ কারণে কি আমরা পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, তারা র‍্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। তবে নতুন কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন বিশেষায়িত ইউনিটে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত হলে তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা থাকবে, যা আগে ছিল না।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল, সংসদে বিতর্ক

আপডেট সময় ১০:০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। চার কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও উত্থাপন করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত, সংঘবদ্ধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ-দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, র‍্যাবের সব জনবল, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, দায়, চুক্তি ও নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাবের ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা কার্যকর থাকবে।

এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এটি গঠিত হবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এর মহাপরিচালক হবেন।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণ ও সদস্যদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

সংসদে বিতর্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের কারণে র‍্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল, এমনকি বিএনপিও র‍্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তিনি বলেন, র‍্যাব ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এটি বিলুপ্ত করা উচিত। নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের আগে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন উপদেষ্টা পরিষদে তিনি এ প্রস্তাব দিলে ভালো হতো। কিন্তু ১৮ মাসে তার এ কথা মনে হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। এ কারণে কি আমরা পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, তারা র‍্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। তবে নতুন কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন বিশেষায়িত ইউনিটে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত হলে তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা থাকবে, যা আগে ছিল না।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস