বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় আবারও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর তোড়জোড়ের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের পুরনো অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ ও মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে দাবি করে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগত সত্তার অস্তিত্ব ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে কখনো ছিল না। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মূল পরিচয়ই যেখানে অস্বীকৃত, সেখানে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা নতুন করে কঠোর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়তে পারেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে অনুপস্থিত। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও আশ্বস্ত করেছেন, জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবির। দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস
























