জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৪ জানুয়ারি শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত ঠিকানায় তাদের খুঁজে না পাওয়ায় এবং কেউ নোটিশ গ্রহণ না করায় এবার নতুন করে তাদের ঠিকানায় নোটিশ লটকানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
আজ দুদক থেকে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম (সাবেক এমপি, গোপালগঞ্জ-২) এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
মিসেস ফাতেমা সেলিম (শেখ সেলিমের স্ত্রী) তাঁর আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে। তাঁর নামে-বেনামে আরও সম্পদ উদঘাটনের জন্য দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শেখ ফজলে ফাহিম (শেখ সেলিমের পুত্র) এর আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধেও ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেখ ফজলে নাঈম (শেখ সেলিমের পুত্র) এর বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়ায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া (শেখ সেলিমেরকন্যা) এর আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় তাঁর প্রতিও সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, গত ৪ জানুয়ারি মামলা ও নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হলেও অভিযুক্তদের স্থায়ী বা বর্তমান কোনো ঠিকানায় সশরীরে তাদের পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের পক্ষে কেউ এই নোটিশ গ্রহণও করেননি। এই পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ নতুন করে তাদের ঠিকানায় নোটিশ লটকানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কমিশন।
দুদকের গঠিত তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম এই অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা করছে। টিমটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপরিচালক মো: খায়রুল হক। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি
























