কলা এমন একটি জনপ্রিয় ও সহজলভ্য ফল, যা সারা বছরই পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল অনেকের খাদ্যতালিকার নিয়মিত অংশ। যাত্রাপথে সহজে খাওয়ার জন্য, স্কুলের টিফিনে কিংবা অফিসে হালকা নাস্তা হিসেবে কলা বেশ জনপ্রিয়। তবে প্রতিদিন কলা খেলে শরীরের জন্য কী ধরনের উপকার হতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
ব্যায়ামের আগে প্রাকৃতিক শক্তির উৎস
পাকা কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তাই ব্যায়ামের আগে কলা খাওয়া হতে পারে একটি ভালো বিকল্প। অ্যাপালেচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ দূরত্বের সাইক্লিংয়ের সময় কলা খাওয়া ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত স্পোর্টস ড্রিংক গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল না। অর্থাৎ, তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের সময় কলা কার্যকর শক্তির উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
পেশী ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় সহায়ক
কলা পটাশিয়ামের ভালো উৎস। শরীরের স্বাভাবিক পেশী সংকোচন ও স্নায়ুর কার্যক্রমে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যেতে পারে। এ সময় খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কম পাকা কলায় রয়েছে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ
কলার পাকার মাত্রার সঙ্গে এর কার্বোহাইড্রেটের ধরনও পরিবর্তিত হয়। তুলনামূলক কম পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকে। এটি ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহেও ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্রুত ও ধীরগতির শক্তির সমন্বয়
কলায় রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার এবং পাকার মাত্রাভেদে বিভিন্ন ধরনের স্টার্চ। ফলে এটি দ্রুত শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তি ও শক্তি পেতেও সহায়ক হতে পারে। ব্যায়ামের আগে বা পরে হালকা খাবার হিসেবে কলা একটি সহজ বিকল্প।
শরীরের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যে ভূমিকা
পটাশিয়াম শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইটগুলোর একটি। এটি শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু কলা খেয়ে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয় বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ঘামের পর পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া খাদ্যতালিকায় শক্তি, পটাশিয়াম, ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি যোগ করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত অবস্থা থাকলে নিয়মিত কতটুকু কলা খাবেন, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস




























