রান্নার আগে চাল কতবার ধোয়া উচিত এমন সাধারণ প্রশ্ন নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে পানি অপচয় রোধে চাল ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতামূলক একটি উদ্যোগ নেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোকে প্রচলিত ৫ থেকে ৭ বারের পরিবর্তে মাত্র দুইবার চাল ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চালের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও। ভারতের পিএসআরআই হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান ডায়াটেশিয়ান শালিনী ব্লিসের মতে, বেশিরভাগ পরিবারের জন্য দুই থেকে তিনবার চাল ধোয়াই যথেষ্ট।
তিনি জানান, প্যাকেটজাত চাল পরিষ্কার পানির নিচে দুইবার ধুলেই সাধারণত ধুলোবালি, আলগা স্টার্চ ও সামান্য ময়লা দূর করা যায়। চাল পাঁচ থেকে সাতবার ধুলে যে তা আরও নিরাপদ হয়ে ওঠে, এমন প্রমাণ নেই।
চাল বারবার ধুলে আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান দূর হয় এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চাল ধোয়ার মাধ্যমে আর্সেনিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায় না। দুই থেকে তিনবার ভালোভাবে ধোয়ার তুলনায় পাঁচ থেকে সাতবার ধুলে বাড়তি স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়ার প্রমাণও নেই।
আর্সেনিক নিয়ে উদ্বেগ থাকলে বারবার চাল ধোয়ার পরিবর্তে চালের উৎস এবং রান্নার পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়াই বেশি কার্যকর।
চাল অতিরিক্ত ধোয়ার আরেকটি নেতিবাচক দিক হলো পুষ্টি উপাদান কমে যাওয়ার আশঙ্কা। পানিতে দ্রবণীয় আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, থায়ামিন ও নিয়াসিনের মতো কিছু পুষ্টি উপাদান ধোয়ার সময় পানির সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পালিশ করা বা কিছু ধরনের সিদ্ধ চালের ক্ষেত্রে এ ধরনের পুষ্টি অপচয় বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, চাল দুই থেকে তিনবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রান্না করাই ভালো। পানি পুরোপুরি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত বারবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
আর আর্সেনিক নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অতিরিক্ত ধোয়ার পরিবর্তে নিরাপদ উৎসের চাল বেছে নেওয়া এবং উপযুক্ত রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।রান্নার আগে চাল দুই থেকে তিনবার ধোয়া সাধারণত যথেষ্ট। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পানি অপচয় ও অতিরিক্ত পুষ্টি ক্ষয়ের ঝুঁকিও কমানো যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বাংলা৭১নিউজ/জেএস



























