ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিরা সকলেই গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য

কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশিই চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে নিউ মার্কেটের কাছে ওই হোটেলে আগুন লাগলে তারা ভেতরে আটকা পড়েন।

ভোর ৩টার দিকে হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন অতিথি বের হতে পারেননি। খবর পেয়ে চারটি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও এতে যোগ দেন।

দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালান। তবে ঘন ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলায় পৌঁছাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

এদিকে, কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ভোরে হোটেল বিদেষিণীতে আগুনে অন্তত আটজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। সে সময় বেশিরভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিরা সকলেই গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য

আপডেট সময় ১২:১১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশিই চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে নিউ মার্কেটের কাছে ওই হোটেলে আগুন লাগলে তারা ভেতরে আটকা পড়েন।

ভোর ৩টার দিকে হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন অতিথি বের হতে পারেননি। খবর পেয়ে চারটি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও এতে যোগ দেন।

দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালান। তবে ঘন ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলায় পৌঁছাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

এদিকে, কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ভোরে হোটেল বিদেষিণীতে আগুনে অন্তত আটজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। সে সময় বেশিরভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ