ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), সেই প্ল্যাটফর্মই এখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের দমনপীড়নের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের বিভিন্ন ভিডিও ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও টিকটকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিও মিম, রিলস ও বিভিন্ন সৃজনশীল কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন করে প্রচার করছেন তরুণরা। তাদের ভাষায়, এটি তাদের আন্দোলনের সরাসরি সম্প্রচার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সংগঠন কাকরোচ জনতা পার্টি সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। সংগঠনটির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক লাখ পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, ধাতব পেলট ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। যদিও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে আন্দোলনকারীদের ধারণ করা অসংখ্য ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওর প্রভাবে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ ও আইজলেও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তরুণরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মিম, অ্যানিমে, কমিকস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা উপাদান ব্যবহার করছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেককে স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান কিংবা হাল্কের পোশাকে দেখা গেছে। কেউ আবার জাপানি অ্যানিমে ওয়ান পিসের ব্যানার হাতে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
তরুণদের দাবি, অতীতে সরকারের সমালোচনা করলে যে ভয় কাজ করত, এখন তা অনেকটাই কেটে গেছে। তারা ইউটিউব বা মূলধারার গণমাধ্যমের পরিবর্তে নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ঘটনাগুলো বিশ্বজুড়ে তুলে ধরছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনের প্রভাব বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথাও জানান তিনি।
তবে মোদীর এই বক্তব্যের পরই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবির ওপর মোদীর মন্তব্য ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়, হাই, আমার নাম গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।
আল জাজিরার মতে, ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও ব্যঙ্গের সমন্বয়ে ভারতের তরুণ প্রজন্ম এমন এক ডিজিটাল আন্দোলন গড়ে তুলেছে, যা সরকারের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ


























