ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্য মিলছে না: ডিএমপি কমিশনার Logo পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর Logo কে সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী Logo চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই Logo উত্তেজনা বাড়িয়ে তাইওয়ান প্রণালিতে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চীনের Logo বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo মিটমিট করে জ্বলছে চুলা, গ্যাস সংকটে রান্না বন্ধ Logo ৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে ১৪ মামলার আসামি নিহত

যশোরে ঘরে ঢুকে হামলা ও পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে একাধিক হত্যাসহ ১৪টি মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতু (৩৫) নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জিতুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ত্রাসী জিতুর চাকুর আঘাতে একই পরিবারের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন- পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া এলাকার লাল মিয়ার স্ত্রী শুকরান বেগম (৫২) এবং তার ছেলে সুমন হোসেন ওরফে সুমন মিয়া (২৮)। তারা বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শুকরান বেগম জানান, বুধবার রাতে সন্ত্রাসী জিতু তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সে সুমনের কাছে মাদক ক্রয়ের জন্য চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় জিতু ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে মারধর করে এবং চাকুর আঘাতে তার মুখের বাঁ-পাশ জখম করে। ছেলেকে বাঁচাতে শুকরান বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে জিতু।

 

একপর্যায়ে সন্ত্রাসী জিতু ঘরের ভেতরে সুমনের স্ত্রীকে (শুকরান বেগমের পুত্রবধূ) জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় পুত্রবধূকে রক্ষা ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে শুকরান বেগম ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন।

পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’এ কল দিলে, কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় জিতুকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের কালনা সেতু এলাকায় জিতুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের শরীরে বেশ কয়েকটি সেলাই ও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। ঠিক কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে ১৪ মামলার আসামি নিহত

আপডেট সময় ১২:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

যশোরে ঘরে ঢুকে হামলা ও পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে একাধিক হত্যাসহ ১৪টি মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতু (৩৫) নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জিতুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ত্রাসী জিতুর চাকুর আঘাতে একই পরিবারের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন- পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া এলাকার লাল মিয়ার স্ত্রী শুকরান বেগম (৫২) এবং তার ছেলে সুমন হোসেন ওরফে সুমন মিয়া (২৮)। তারা বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শুকরান বেগম জানান, বুধবার রাতে সন্ত্রাসী জিতু তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সে সুমনের কাছে মাদক ক্রয়ের জন্য চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় জিতু ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে মারধর করে এবং চাকুর আঘাতে তার মুখের বাঁ-পাশ জখম করে। ছেলেকে বাঁচাতে শুকরান বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে জিতু।

 

একপর্যায়ে সন্ত্রাসী জিতু ঘরের ভেতরে সুমনের স্ত্রীকে (শুকরান বেগমের পুত্রবধূ) জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় পুত্রবধূকে রক্ষা ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে শুকরান বেগম ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন।

পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’এ কল দিলে, কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় জিতুকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের কালনা সেতু এলাকায় জিতুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের শরীরে বেশ কয়েকটি সেলাই ও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। ঠিক কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ