ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্য মিলছে না: ডিএমপি কমিশনার Logo পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর Logo কে সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী Logo চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই Logo উত্তেজনা বাড়িয়ে তাইওয়ান প্রণালিতে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চীনের Logo বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo মিটমিট করে জ্বলছে চুলা, গ্যাস সংকটে রান্না বন্ধ Logo ৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বাগেরহাটের সেই ইকনের সংগ্রামী জীবনের হৃদয়বিদারক গল্প

বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবনসংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাবার দাফন শেষে রাতে এটিএম বুথে ডিউটি এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর তার জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার এবং তার মামার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা তার সহকর্মীরা কখনোই পরীক্ষার আগের রাতে তাকে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরং তিনি নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই পর্যন্ত কিনতে পারেননি ইকন। শুরুতে তিনি মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রস্তুত করেন।

ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয় বহন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভেঙে পড়েননি এই তরুণ। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে তিনি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবার ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ইকনের স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়ার। অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক দুর্ভোগও তার সেই স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।

স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

বাগেরহাটের সেই ইকনের সংগ্রামী জীবনের হৃদয়বিদারক গল্প

আপডেট সময় ১১:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবনসংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাবার দাফন শেষে রাতে এটিএম বুথে ডিউটি এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর তার জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার এবং তার মামার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা তার সহকর্মীরা কখনোই পরীক্ষার আগের রাতে তাকে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরং তিনি নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই পর্যন্ত কিনতে পারেননি ইকন। শুরুতে তিনি মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রস্তুত করেন।

ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয় বহন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভেঙে পড়েননি এই তরুণ। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে তিনি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবার ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ইকনের স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়ার। অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক দুর্ভোগও তার সেই স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।

স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস