ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইয়ামালের আবেগঘন পোস্টে জন্মস্থানের প্রতি ভালোবাসা Logo পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৫ Logo বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার উদ্বোধন Logo ভারতে হড়কা বান-ভূমিধসে ১৯ জনের মৃত্যু Logo বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন রোনালদো Logo বিধিনিষেধে আবদ্ধ ঢাবি এলাকায় বিশ্বকাপের ফাইনালের উন্মাদনায় ভাটা Logo আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দিতে ‘হেলথকেয়ার সিটি’ করবে ইউএস-বাংলা Logo কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo জুলাই শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি যুক্ত হচ্ছে পাসপোর্টে Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

গোলবন্যার রাতে ইতিহাস বদল: এমবাপের মুকুটে বিশ্বরেকর্ডের নতুন পালক

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম যেন রূপ নিয়েছিল এক চরম নাটকীয়তার মঞ্চে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু গোলবন্যার সাক্ষীই হয়ে রইল না, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখে দিল এক নতুন মহাকাব্য। প্রথমার্ধেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবলের তোড়ে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু ফরাসিদের অভিধানে যে ‘হার মেনে নেওয়া’ শব্দটাই নেই!

দ্বিতীয়মার্ধে এক অদম্য ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে ফরাসিরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের নায়ক আর কেউ নন—কাইলিয়ান এমবাপে। তাঁর জাদুকরী পায়ের জোড়া গোলে ম্যাচে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে ফেরে ফ্রান্স। যদিও শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার অনবদ্য হ্যাটট্রিকে ইংলিশরা ম্যাচটি ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নেয়, তবুও পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে সমস্ত আলো কেড়ে নেন এমবাপে। দল হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের এক অনন্য এভারেস্টে পা রাখলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড; ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে এখন তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের একক অধিপতি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই, ৪৮ মিনিটের মাথায় যখন এমবাপের শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখনই চলতি আসরের গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠে যান তিনি। একই সাথে স্পর্শ করেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির গড়া ২১ গোলের মহাকীর্তি। কিন্তু এমবাপের ক্ষুধা যেন সেখানেই মেটার ছিল না। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলেন, তখন চলতি আসরে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ (৮ গোল নিয়ে মেসি আছেন দ্বিতীয় স্থানে)। আর এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখা হয়—লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ২২ গোল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিজের করে নেন এই ফরাসি জাদুকর।

তবে ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকর লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এমবাপের কেড়ে নেওয়া মুকুট পুনরুদ্ধার করার এক দারুণ ও মহাকাব্যিক সুযোগ এখনো টিকে আছে লিওনেল মেসির সামনে। আগামী রোববার স্বপ্নের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেই মহারণে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক যদি জোড়া গোল করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের ভাগীদার হবেন তিনি। আর যদি দেখা মেলে এক জাদুকরী হ্যাটট্রিকের, তবে এমবাপেকে টপকে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক ট্রফিটাও উঠবে ফুটবলের এই ক্ষুদে জাদুকরের হাতে।

বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত, এখন দেখার বিষয়—এমবাপের গড়া নতুন সাম্রাজ্যে মেসি কি পারবেন তাঁর রাজদণ্ড ফিরিয়ে নিতে? উত্তর লুকিয়ে আছে রোববারের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে।

বাংরা৭১নিউজ/এসএম

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়ামালের আবেগঘন পোস্টে জন্মস্থানের প্রতি ভালোবাসা

গোলবন্যার রাতে ইতিহাস বদল: এমবাপের মুকুটে বিশ্বরেকর্ডের নতুন পালক

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম যেন রূপ নিয়েছিল এক চরম নাটকীয়তার মঞ্চে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু গোলবন্যার সাক্ষীই হয়ে রইল না, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখে দিল এক নতুন মহাকাব্য। প্রথমার্ধেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবলের তোড়ে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু ফরাসিদের অভিধানে যে ‘হার মেনে নেওয়া’ শব্দটাই নেই!

দ্বিতীয়মার্ধে এক অদম্য ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে ফরাসিরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের নায়ক আর কেউ নন—কাইলিয়ান এমবাপে। তাঁর জাদুকরী পায়ের জোড়া গোলে ম্যাচে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে ফেরে ফ্রান্স। যদিও শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার অনবদ্য হ্যাটট্রিকে ইংলিশরা ম্যাচটি ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নেয়, তবুও পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে সমস্ত আলো কেড়ে নেন এমবাপে। দল হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের এক অনন্য এভারেস্টে পা রাখলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড; ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে এখন তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের একক অধিপতি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই, ৪৮ মিনিটের মাথায় যখন এমবাপের শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখনই চলতি আসরের গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠে যান তিনি। একই সাথে স্পর্শ করেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির গড়া ২১ গোলের মহাকীর্তি। কিন্তু এমবাপের ক্ষুধা যেন সেখানেই মেটার ছিল না। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলেন, তখন চলতি আসরে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ (৮ গোল নিয়ে মেসি আছেন দ্বিতীয় স্থানে)। আর এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখা হয়—লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ২২ গোল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিজের করে নেন এই ফরাসি জাদুকর।

তবে ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকর লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এমবাপের কেড়ে নেওয়া মুকুট পুনরুদ্ধার করার এক দারুণ ও মহাকাব্যিক সুযোগ এখনো টিকে আছে লিওনেল মেসির সামনে। আগামী রোববার স্বপ্নের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেই মহারণে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক যদি জোড়া গোল করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের ভাগীদার হবেন তিনি। আর যদি দেখা মেলে এক জাদুকরী হ্যাটট্রিকের, তবে এমবাপেকে টপকে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক ট্রফিটাও উঠবে ফুটবলের এই ক্ষুদে জাদুকরের হাতে।

বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত, এখন দেখার বিষয়—এমবাপের গড়া নতুন সাম্রাজ্যে মেসি কি পারবেন তাঁর রাজদণ্ড ফিরিয়ে নিতে? উত্তর লুকিয়ে আছে রোববারের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে।

বাংরা৭১নিউজ/এসএম