আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দিতে ‘হেলথকেয়ার সিটি’ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, যেটি সিঙ্গাপুরের শীর্ষ হাসপাতালের নকশাকারদের সহায়তায় তৈরি করা হবে।
একইসঙ্গে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখা আরও ২০০ জন তরুণকে ভবিষ্যতে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে বিমান সংস্থাটি।
রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই হেলথকেয়ার সিটি যাত্রা শুরু করলে বিদেশ থেকে এখানে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি ছাড়া এভিয়েশন শিল্পে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই বছর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মাধ্যমে মেধাবী ৫০ জন তরুণকে নির্বাচন করে যুক্তরাষ্ট্রে পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখা আরও ২০০ জন তরুণকে ভবিষ্যতে বিদেশে প্রশিক্ষণের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইউএস-বাংলা।
প্রতিষ্ঠানটির এমডি জানান, বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে প্রায় ৪০০ পাইলট ও ৬০০ কেবিন ক্রু কর্মরত আছেন, যা ২০২৭ সালের শেষে যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ এবং ৩ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার বিঘা জমির ওপর একটি ‘হেলথকেয়ার সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের শীর্ষ হাসপাতালের নকশাকারদের মাধ্যমে এখানে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের হাসপাতাল। যার লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপাল ও ভুটানসহ আশপাশের দেশের মানুষকেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া।
এভিয়েশন ও স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটির এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি ডাটা সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। দেশের বিশ্বমানের ডাটা সেন্টারের ঘাটতি মেটাতে এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতের অর্থনীতি প্রযুক্তিনির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা গ্রুপ শুধু একটি এয়ারলাইন্স হিসেবে নয়, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুমুখী একটি বাংলাদেশি বৈশ্বিক গ্রুপ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
এ লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ডেভেলপার ও এভিয়েশন-সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের তরুণদের এসব খাতে দক্ষ করে তোলার ওপর জোর দেন ইউএস-বাংলার এমডি, যা তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















