আসামিকে আদালতে চালান দেওয়ার কাজে সহকর্মীদের প্রয়োজন ছিল তাকে। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার শয়নকক্ষে যান সহকর্মীরা। সেখানে গিয়ে দেখেন, বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন লোহাগাড়া থানার কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুল হক (৫০)।
শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩২ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে কর্মস্থলেই মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত আটটা পর্যন্ত নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছিলেন আজিজুল হক। ডিউটি শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিশ্রামের জন্য ব্যারাকে নিজ কক্ষে ফেরেন তিনি। সহকর্মীরা ভেবেছিলেন, সারাদিনের ব্যস্ততার পর হয়তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তিনি। কিন্তু পরদিন সকালেও কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় এবং মোবাইল ফোনে কোনো সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ হয় তাদের। পরে তার কক্ষে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহতের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, আজিজুল হকের বাড়ি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া এলাকায়। তিনি মৃত আনোয়ারুল হকের ছেলে। গত ২০ মে লোহাগাড়া থানায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই স্ত্রী ও তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই তার স্বামী বুকে ব্যথা ও ডায়াবেটিসের মতো শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে ঘুমানোর পর স্ট্রোকে বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা একে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। আমরা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছি।
তিনি আরও বলেন, মরহুমের পরিবারের সদস্যরা লোহাগাড়ায় পৌঁছালে এখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ পুলিশ লাইনে নেওয়া হবে। সহকর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে লোহাগাড়া থানায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ


























