ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন এখন পোকামাকড়ের আবাস Logo এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর Logo নিয়তির অদ্ভুত খেলা: লামিন ইয়ামালকে নিয়ে যা বললেন লিওনেল মেসি Logo হামলা তীব্র হবে ইরানে, আরো ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন Logo প্রযুক্তির জালে মাদক: সাইবার অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ বার্তা মৃত্যুদণ্ড Logo স্মৃতির করিডোরে শুধুই শূন্যতা: এক আলোকবর্তিকার অকালে বিদায় Logo বন্দী যখন নিজেই এক জলন্ত বিপ্লব: যাঁর মুক্তির দাবিতে কেঁপেছিল বিশ্ব Logo দাবানলের ধোঁয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে শঙ্কা Logo চীনের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের, তবুও… Logo ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

স্মৃতির করিডোরে শুধুই শূন্যতা: এক আলোকবর্তিকার অকালে বিদায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে আজ কেবলই শূন্যতা আর কান্নার রোল। চিরতরে নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গতকাল ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যিনি মুখে হাসি মেখে লড়ে যাচ্ছিলেন, সেই অদম্য প্রাণটি অবশেষে ক্যানসারের কাছে হার মানল। মাত্র ৫২ বছর বয়সেই থমকে গেল তাঁর কর্মমুখর জীবন। তিনি তাঁর স্বামী, দুই পুত্র, অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন, যাঁরা আজ তাঁর স্মৃতির সাগরে ভাসছেন।

উপাচার্যের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা
অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহারের অকাল মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক আবেগঘন শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, “ড. নাজমুন নাহার কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক। শিক্ষা ও গবেষণার আঙিনায় তাঁর যে অবদান, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার চিরকাল অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।”

উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রার্থনা করেন।

শেষবারের মতো ক্যাম্পাসে প্রিয় শিক্ষক
যে ক্যাম্পাসের ঘাস-মাটি, ক্লাসরুম আর করিডোরে মিশে আছে তাঁর কতশত স্মৃতি, সেই চেনা আঙিনায় আজ তিনি ফিরলেন ঠিকই, তবে কফিনবন্দি হয়ে। প্রিয় শিক্ষককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ শনিবার দুপুর ১২টায় টায় তাঁর মরদেহ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এ সময় সহকর্মী আর প্রিয় শিক্ষার্থীদের চোখ অশ্রুতে সিক্ত হয়ে ওঠে। প্রিয় ম্যামের নিথর দেহের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

আজ বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিআ’-য় মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানের মাটির বুকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে পরম শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষককে।

ক্লাসরুমের সেই চেনা কণ্ঠটি আর কখনো শোনা যাবে না, ডেক্সটিতে আর বসবেন না তিনি- কিন্তু শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আর ঢাবির ইতিহাসে ড. নাজমুন নাহার বেঁচে থাকবেন এক আলোকবর্তিকা হয়ে। ওপারে ভালো থাকুন, প্রিয় শিক্ষক।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন এখন পোকামাকড়ের আবাস

স্মৃতির করিডোরে শুধুই শূন্যতা: এক আলোকবর্তিকার অকালে বিদায়

আপডেট সময় ১২:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে আজ কেবলই শূন্যতা আর কান্নার রোল। চিরতরে নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গতকাল ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যিনি মুখে হাসি মেখে লড়ে যাচ্ছিলেন, সেই অদম্য প্রাণটি অবশেষে ক্যানসারের কাছে হার মানল। মাত্র ৫২ বছর বয়সেই থমকে গেল তাঁর কর্মমুখর জীবন। তিনি তাঁর স্বামী, দুই পুত্র, অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন, যাঁরা আজ তাঁর স্মৃতির সাগরে ভাসছেন।

উপাচার্যের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা
অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহারের অকাল মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক আবেগঘন শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, “ড. নাজমুন নাহার কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক। শিক্ষা ও গবেষণার আঙিনায় তাঁর যে অবদান, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার চিরকাল অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।”

উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রার্থনা করেন।

শেষবারের মতো ক্যাম্পাসে প্রিয় শিক্ষক
যে ক্যাম্পাসের ঘাস-মাটি, ক্লাসরুম আর করিডোরে মিশে আছে তাঁর কতশত স্মৃতি, সেই চেনা আঙিনায় আজ তিনি ফিরলেন ঠিকই, তবে কফিনবন্দি হয়ে। প্রিয় শিক্ষককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ শনিবার দুপুর ১২টায় টায় তাঁর মরদেহ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এ সময় সহকর্মী আর প্রিয় শিক্ষার্থীদের চোখ অশ্রুতে সিক্ত হয়ে ওঠে। প্রিয় ম্যামের নিথর দেহের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

আজ বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিআ’-য় মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানের মাটির বুকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে পরম শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষককে।

ক্লাসরুমের সেই চেনা কণ্ঠটি আর কখনো শোনা যাবে না, ডেক্সটিতে আর বসবেন না তিনি- কিন্তু শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আর ঢাবির ইতিহাসে ড. নাজমুন নাহার বেঁচে থাকবেন এক আলোকবর্তিকা হয়ে। ওপারে ভালো থাকুন, প্রিয় শিক্ষক।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি