মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখায় সংসদে ক্ষোভ, মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পুরনো ও অকেজো রেল নিলামে বিক্রি সম্ভব নয়: রেলমন্ত্রী দিল্লিতে বাধা পেয়ে উপদেষ্টা জাহেদের দেশে ফেরা অনাকাঙ্ক্ষিত সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পেশ, ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-মহাখালী টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার দেশের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোল যায়নি: তথ্যমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি স্থিতিশীল-সমৃদ্ধশালী করাই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী দেশ মাদকমুক্ত না হলে বাজেট উপকারে আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভারতের অনুমোদন না মেলায় নেপাল থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

নেপাল থেকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদন আটকে দিয়েছে ভারত। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সোমবার (১৫ জুন) থেকে নেপাল থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ।

নেপাল ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথোরিটি (সিইএ) এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের অনুমোদন স্থগিত রেখেছে। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পেতে হলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) সিদ্ধান্তের মতো বেশ কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজস্ব চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার অজুহাত

এর আগে, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নেপাল-বাংলাদেশ যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথোরিটি (এনইএ) ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়।

কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায়, ভারত-বাংলাদেশ এক হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনে এই অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনের সুযোগ বা খালি জায়গা নেই।

এনইএ’র বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, ‘এবার কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই বাংলাদেশে যাবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য আমরা ভারতের সিইএর কাছে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে, সঞ্চালন লাইনে এই মুহূর্তে বাড়তি সক্ষমতা নেই।’

ত্রিপক্ষীয় চুক্তি

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছরের ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার কথা। ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল।

নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার থেকে ভারতের মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন হয়ে এবং পরবর্তীতে ভারতের বহরমপুর থেকে বাংলাদেশের ভেড়ামারা ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে হলে নেপাল ও ভারতের মধ্যকার আগামী জেএসসি এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এই বৈঠকের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিদ্যুতের দাম কত?

বাংলাদেশ নেপাল থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৪০ ইউএস সেন্ট (৭ টাকা ৮৭ পয়সা প্রায়) মূল্যে কিনছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলেও একই দাম বহাল থাকবে। ভারতের সঙ্গে নেপাল রুপিতে বিদ্যুৎ বাণিজ্য করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন নেপালি রুপির (১ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা) বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন রুপি (১ হাজার ৬০ কোটি টাকা প্রায়)। নেপাল এ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশে সম্মিলিতভাবে ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com