ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দীন আবসারের চিরবিদায়

গণসংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত শিক্ষক কামরুদ্দীন আবসার মারা গেছেন। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রয়াণ ঘটে তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। 

কামরুদ্দীন আবসারের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আদনান মুকিত দীপ্র। জানান, গত ১৭ দিন ধরে তার বাবা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ রাখা হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-এ তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে দাফন সংক্রান্ত পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কামরুদ্দীন আবসার। ২০১১ সালে স্ট্রোক করার পর তার শরীরের বাম পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তবে এরপরও দীর্ঘ সময় তিনি স্থিতিশীল ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারতেন। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কামরুদ্দীন আবসার। শিল্পীজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এর সংগীত ও পরিচালনা বিভাগে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

তবে তার মূল পরিচিতি গড়ে ওঠে গণসংগীতের জগতে। তিনি ‘চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই’, ‘আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের’ এবং ‘তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না’সহ বহু জনপ্রিয় গণসংগীত পরিবেশন করেছেন। তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে মে দিবসের গান এবং বাংলার কমরেড বন্ধু।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম এবং একমাত্র ছেলে আদনান মুকিত দীপ্রকে রেখে গেছেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দীন আবসারের চিরবিদায়

আপডেট সময় ০২:১৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

গণসংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত শিক্ষক কামরুদ্দীন আবসার মারা গেছেন। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রয়াণ ঘটে তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। 

কামরুদ্দীন আবসারের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আদনান মুকিত দীপ্র। জানান, গত ১৭ দিন ধরে তার বাবা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ রাখা হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-এ তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে দাফন সংক্রান্ত পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কামরুদ্দীন আবসার। ২০১১ সালে স্ট্রোক করার পর তার শরীরের বাম পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তবে এরপরও দীর্ঘ সময় তিনি স্থিতিশীল ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারতেন। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কামরুদ্দীন আবসার। শিল্পীজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এর সংগীত ও পরিচালনা বিভাগে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

তবে তার মূল পরিচিতি গড়ে ওঠে গণসংগীতের জগতে। তিনি ‘চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই’, ‘আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের’ এবং ‘তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না’সহ বহু জনপ্রিয় গণসংগীত পরিবেশন করেছেন। তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে মে দিবসের গান এবং বাংলার কমরেড বন্ধু।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম এবং একমাত্র ছেলে আদনান মুকিত দীপ্রকে রেখে গেছেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ