ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, জনগণের সম্পদ : ভূমিমন্ত্রী Logo কলকাতায় আগুনে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা হবে; পরিবার চাইলে খরচ বহন করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটায় ফেরদৌস স্টিলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা Logo হামের উপসর্গে আরো ৪ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০১৮ Logo মসজিদের অজুখানা থেকে স্যানিটারি মিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার Logo কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড : স্ত্রী-সন্তানসহ বাংলাদেশি সাংবাদিক নিহত Logo ১৫ আগস্টের গোপন বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার ৫২, ভাটারা থানার মামলায় রিমান্ডে ১৫ Logo দীর্ঘ ৯ মাস পর কারাগারে পরিবারের দেখা পেলেন ইমরান খান Logo স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি Logo শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

হাওরের পানিতে ডুবছে ধান, বাঁচাতে মরিয়া কৃষকরা

আগাম পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল। ধান বাঁচাতে কৃষকদেও প্রাণান্তকর চেষ্টা। পানির নিচ থেকে ধান কাটায় কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করে তেল কেনার বিড়ম্বনায় সময়মতো মেশিনে ধান কাটতে পারেনি কৃষকেরা। ফলে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধাতায় ডুবে গেছে ফসল। 

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে নদীগুলোর পানি বেড়ে বিস্তর ফসল তলিয়ে গেছে। 

হাওর ঘুরে দেখা গেছে, গেল কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজানের আগাম পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে নেত্রকোনার সব কয়টি নদ-নদীর পানি। এর আগে থেকে হাওরের পানি নামার জায়গা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

ফলে নীচু এলাকার ধানের জমি তলিয়ে যায়। তার উপর ঢলে বেড়ে যাওয়া নদ নদীর এই পানিতেই ডুবেছে জেলার পুরো হাওর। বিশেষ করে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার সবগুলো হাওরের চিত্র এখন একই রকম।

ডিঙ্গাপোতা হাওর, গণেশ্রে হাওর, তলার হাওর, গোবিন্দ্রশ্রী, উচিতপুর হাওর, পাঙ্গাশিয়া হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। শ্রমিক মিলছে না। কয়েকমণ ধানের টাকায় একজন শ্রমিক পাওয়া যায়। পানির জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও নামতে পারছেনা। 

সব মিলিয়ে কৃষকের এখন নয়নভাগা পরিস্থিতি। জমির পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে পানির নিচে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক বুক সমান কিংবা কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কেটে উঁচু স্থানে জড়ো করছেন। কিন্তু এসকল ভেজা ধান কেনার ক্রেতা নেই। 

কৃষকরা বলছেন, ২০২২ সালের পর এমন দুর্যোগ আর দেখেননি তারা। সাধারণত বৈশাখের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধান কাটার সময় মিললেও এবার প্রকৃতি সেই সুযোগ দেয়নি। আর এতেই বানের পানির সাথে তলিয়ে গেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। হাওওে বছর বছর বাঁধ দেয়ার সকল মাটিতে নদীনালা ফসলের জমি সমান হয়ে পড়ায় এই বৃািষ্টতে এবার এমন দুর্যোগ দেখা গেছে। 

অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কোনো রকমে কিছু ধান কাটতে পারলেও বাজারে দাম নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিড়ম্বনা। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার বেশি দাম মিলছে না।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওর অধ্যুষিত প্রায় ৪১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে আগাম বৃষ্টি ও বন্যায় এরই মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, জনগণের সম্পদ : ভূমিমন্ত্রী

হাওরের পানিতে ডুবছে ধান, বাঁচাতে মরিয়া কৃষকরা

আপডেট সময় ০৭:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আগাম পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল। ধান বাঁচাতে কৃষকদেও প্রাণান্তকর চেষ্টা। পানির নিচ থেকে ধান কাটায় কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করে তেল কেনার বিড়ম্বনায় সময়মতো মেশিনে ধান কাটতে পারেনি কৃষকেরা। ফলে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধাতায় ডুবে গেছে ফসল। 

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে নদীগুলোর পানি বেড়ে বিস্তর ফসল তলিয়ে গেছে। 

হাওর ঘুরে দেখা গেছে, গেল কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজানের আগাম পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে নেত্রকোনার সব কয়টি নদ-নদীর পানি। এর আগে থেকে হাওরের পানি নামার জায়গা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

ফলে নীচু এলাকার ধানের জমি তলিয়ে যায়। তার উপর ঢলে বেড়ে যাওয়া নদ নদীর এই পানিতেই ডুবেছে জেলার পুরো হাওর। বিশেষ করে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার সবগুলো হাওরের চিত্র এখন একই রকম।

ডিঙ্গাপোতা হাওর, গণেশ্রে হাওর, তলার হাওর, গোবিন্দ্রশ্রী, উচিতপুর হাওর, পাঙ্গাশিয়া হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। শ্রমিক মিলছে না। কয়েকমণ ধানের টাকায় একজন শ্রমিক পাওয়া যায়। পানির জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও নামতে পারছেনা। 

সব মিলিয়ে কৃষকের এখন নয়নভাগা পরিস্থিতি। জমির পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে পানির নিচে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক বুক সমান কিংবা কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কেটে উঁচু স্থানে জড়ো করছেন। কিন্তু এসকল ভেজা ধান কেনার ক্রেতা নেই। 

কৃষকরা বলছেন, ২০২২ সালের পর এমন দুর্যোগ আর দেখেননি তারা। সাধারণত বৈশাখের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধান কাটার সময় মিললেও এবার প্রকৃতি সেই সুযোগ দেয়নি। আর এতেই বানের পানির সাথে তলিয়ে গেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। হাওওে বছর বছর বাঁধ দেয়ার সকল মাটিতে নদীনালা ফসলের জমি সমান হয়ে পড়ায় এই বৃািষ্টতে এবার এমন দুর্যোগ দেখা গেছে। 

অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কোনো রকমে কিছু ধান কাটতে পারলেও বাজারে দাম নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিড়ম্বনা। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার বেশি দাম মিলছে না।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওর অধ্যুষিত প্রায় ৪১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে আগাম বৃষ্টি ও বন্যায় এরই মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ