ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী Logo ‘২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’ Logo সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যা, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়: জাহেদ উর রহমান Logo লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও স্বল্পসুদে ঋণ সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগ: শিল্পমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪ Logo গুজব প্রতিরোধে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী Logo ষড়যন্ত্র করে ভোটে হারানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল Logo শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় ১৭ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর সচলে নতুন সরকারের পানে চেয়ে ব্যবসায়ীরা

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য গত ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এক হাজার অধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন নির্বাচিত সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্য পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাদের কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী কমল বলেন, দশ মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা চরম আর্থিক সংকটে আছি। ব্যাংক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পেরে চাপের মুখে পড়েছি। গুদামে পড়ে থাকা অধিকাংশ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে, শত শত শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ কাজ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় সীমান্ত বাণিজ্য চালুর ব্যবস্থা করে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে।

শ্রমিকরা জানান, বন্দর বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে অন্যত্র কাজের সন্ধানে গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, বন্দর চালু হলে আমরা আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। গত ১০ মাস ধরে কাজ না থাকায় আমাদের সংসার প্রায় অচল হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন বন্দরে কাজ করে যা আয় করতাম, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলতো। এখন ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছি না, বাজার-সদাই করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত যদি বন্দর চালু না হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক শ্রমিক পরিবারসহ মানবেতর অবস্থায় পড়ে যাবে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি রাখাইন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নাফ নদী এলাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। সংগঠনটির বাধার কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারছেন না। কবে নাগাদ আবার সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণাও নেই। তবে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরনির্ভর মানুষজনের প্রত্যাশা, নতুন সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত বাণিজ্য পুনরায় চালু করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, টানা ১০ মাস ধরে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম সংকটে রয়েছেন। আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকের অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে এপারের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যা আদায় করতে না পারায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা হোক। বন্দর সচল হলে ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সরকারও রাজস্ব আয় থেকে উপকৃত হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা সরকারের উচ্চ মহলে অবহিত করেছি। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর সচলে নতুন সরকারের পানে চেয়ে ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ০১:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য গত ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এক হাজার অধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন নির্বাচিত সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্য পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাদের কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী কমল বলেন, দশ মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা চরম আর্থিক সংকটে আছি। ব্যাংক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পেরে চাপের মুখে পড়েছি। গুদামে পড়ে থাকা অধিকাংশ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে, শত শত শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ কাজ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় সীমান্ত বাণিজ্য চালুর ব্যবস্থা করে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে।

শ্রমিকরা জানান, বন্দর বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে অন্যত্র কাজের সন্ধানে গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, বন্দর চালু হলে আমরা আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। গত ১০ মাস ধরে কাজ না থাকায় আমাদের সংসার প্রায় অচল হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন বন্দরে কাজ করে যা আয় করতাম, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলতো। এখন ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছি না, বাজার-সদাই করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত যদি বন্দর চালু না হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক শ্রমিক পরিবারসহ মানবেতর অবস্থায় পড়ে যাবে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি রাখাইন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নাফ নদী এলাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। সংগঠনটির বাধার কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারছেন না। কবে নাগাদ আবার সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণাও নেই। তবে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরনির্ভর মানুষজনের প্রত্যাশা, নতুন সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত বাণিজ্য পুনরায় চালু করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, টানা ১০ মাস ধরে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম সংকটে রয়েছেন। আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকের অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে এপারের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যা আদায় করতে না পারায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা হোক। বন্দর সচল হলে ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সরকারও রাজস্ব আয় থেকে উপকৃত হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা সরকারের উচ্চ মহলে অবহিত করেছি। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ