ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo গোপালগঞ্জে ৬৪১২৩ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন দীপু মনি, কারাগারের সামনে মেয়ে ও আইনজীবী Logo বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭ Logo নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ডিএসসিসির সমন্বিত অভিযান Logo নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি মৃত্যুদণ্ড Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

২৪ ঘণ্টায় ইরানের আশপাশে ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেট রয়েছে এই বহরে। 

পেন্টাগনের বিশাল সমরপ্রস্তুতিকে অনেকেই তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বভাস হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। সামরিক মহড়ার নামে তেহরান ইতিমধ্যে এই সমুদ্রপথের একটি অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে মজুত রয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গত মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন।

আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি এবং ইরানের পরবর্তী প্রস্তাবের ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের বদলে শান্তি আসবে কি না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একদিকে যেমন আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।

এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন। ফলে এক হাতে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্য হাতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ নয় বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের নতুন পরমাণু প্রস্তাব পেশ করবে বলে কথা দিয়েছে, আর এই সময়টুকুই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের ধোঁয়া উড়বে নাকি কূটনৈতিক সমাধান আসবে। 

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

গোপালগঞ্জে ৬৪১২৩ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় ইরানের আশপাশে ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র্র

আপডেট সময় ০৪:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেট রয়েছে এই বহরে। 

পেন্টাগনের বিশাল সমরপ্রস্তুতিকে অনেকেই তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বভাস হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। সামরিক মহড়ার নামে তেহরান ইতিমধ্যে এই সমুদ্রপথের একটি অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে মজুত রয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গত মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন।

আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি এবং ইরানের পরবর্তী প্রস্তাবের ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের বদলে শান্তি আসবে কি না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একদিকে যেমন আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।

এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন। ফলে এক হাতে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্য হাতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ নয় বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের নতুন পরমাণু প্রস্তাব পেশ করবে বলে কথা দিয়েছে, আর এই সময়টুকুই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের ধোঁয়া উড়বে নাকি কূটনৈতিক সমাধান আসবে। 

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ