ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭ Logo নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ডিএসসিসির সমন্বিত অভিযান Logo নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি মৃত্যুদণ্ড Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় Logo উত্তর সিটির রিকশা ঢুকতে পারবে না দক্ষিণে : ডিএসসিসি প্রশাসক Logo গভীর রাতে পিৎজার দোকানে তিন সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ, জেলে-পরিবেশবিদদের উদ্বেগ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মৃত জেলিফিশ ভেসে আসায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তিন নদীর মোহনা, চর বিজয়, গঙ্গামতির চর, লেবুর বন, কাউয়ার চর ও ফাতরার বনসহ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে এসব মৃত জেলিফিশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কয়েক দিন ধরে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় সাগর থেকে প্রচুর জেলিফিশ ভেসে এসেছিল। তবে এবার জেলিফিশের আকার তুলনামূলক বড় এবং সংখ্যাও অনেক বেশি। এত বিপুল পরিমাণ জেলিফিশের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার ও মা-চিংড়ি আহরণে ব্যবহৃত ট্রলিং জাহাজের জালে আটকা পড়ে ব্যাপকসংখ্যক জেলিফিশ মারা যেতে পারে। মৃত্যুর পর জোয়ারের পানির সঙ্গে সেগুলো উপকূল ও সৈকতে ভেসে আসছে।

পাশাপাশি সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার তারতম্য এবং অক্সিজেনের ঘাটতিও জেলিফিশ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তবে জেলেদের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতে, সাগরের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বয়সজনিত কারণে স্রোতের বিপরীতে চলতে না পেরে অনেক জেলিফিশ মারা যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, ‌‌‘আমরা এখন গভীর সমুদ্রে যাচ্ছি না, কাছাকাছি এলাকা থেকেই মাছ ধরছি। কিন্তু জেলিফিশ এত বেশি যে জাল ফেলা ও তোলা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে জাল ফেলে তীরে চলে আসতে হতে পারে।’

আরেক জেলে হেলাল বলেন, ‘জাল তুললেই প্রচুর মৃত জেলিফিশ উঠে আসে। এতে হাত-পা জ্বালা করছে, জালেরও ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাছ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।’

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘অপরিকল্পিত ট্রলিং, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেই এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

কুয়াকাটার ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘জেলিফিশ সামুদ্রিক খাদ্যচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের অস্বাভাবিক মৃত্যু ডলফিনসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান গবেষক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের কর্মকাণ্ড দুটিই জেলিফিশের এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।’

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ, জেলে-পরিবেশবিদদের উদ্বেগ

আপডেট সময় ১২:০১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মৃত জেলিফিশ ভেসে আসায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তিন নদীর মোহনা, চর বিজয়, গঙ্গামতির চর, লেবুর বন, কাউয়ার চর ও ফাতরার বনসহ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে এসব মৃত জেলিফিশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কয়েক দিন ধরে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় সাগর থেকে প্রচুর জেলিফিশ ভেসে এসেছিল। তবে এবার জেলিফিশের আকার তুলনামূলক বড় এবং সংখ্যাও অনেক বেশি। এত বিপুল পরিমাণ জেলিফিশের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার ও মা-চিংড়ি আহরণে ব্যবহৃত ট্রলিং জাহাজের জালে আটকা পড়ে ব্যাপকসংখ্যক জেলিফিশ মারা যেতে পারে। মৃত্যুর পর জোয়ারের পানির সঙ্গে সেগুলো উপকূল ও সৈকতে ভেসে আসছে।

পাশাপাশি সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার তারতম্য এবং অক্সিজেনের ঘাটতিও জেলিফিশ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তবে জেলেদের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতে, সাগরের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বয়সজনিত কারণে স্রোতের বিপরীতে চলতে না পেরে অনেক জেলিফিশ মারা যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, ‌‌‘আমরা এখন গভীর সমুদ্রে যাচ্ছি না, কাছাকাছি এলাকা থেকেই মাছ ধরছি। কিন্তু জেলিফিশ এত বেশি যে জাল ফেলা ও তোলা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে জাল ফেলে তীরে চলে আসতে হতে পারে।’

আরেক জেলে হেলাল বলেন, ‘জাল তুললেই প্রচুর মৃত জেলিফিশ উঠে আসে। এতে হাত-পা জ্বালা করছে, জালেরও ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাছ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।’

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘অপরিকল্পিত ট্রলিং, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেই এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

কুয়াকাটার ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘জেলিফিশ সামুদ্রিক খাদ্যচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের অস্বাভাবিক মৃত্যু ডলফিনসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান গবেষক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের কর্মকাণ্ড দুটিই জেলিফিশের এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।’

বাংলা৭১নিউজ/এবি