বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা, জানলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের সদর হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ চালু করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব : জুবাইদা রহমান সংবিধান সংস্কারে সুযোগ না পেলে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত এভারকেয়ারে নজরুল ইসলাম খান, ভিড় না করার অনুরোধ চিকিৎসকদের টেক্সটাইল, গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির

‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ নির্মূল, বন্দিদশা থেকে ১২ বাংলাদেশি উদ্ধার

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একটি সাধারণ বাড়িকে অস্থায়ী আশ্রয় ও ট্রানজিট কেন্দ্র বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল ‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত একটি চক্র। এই চক্রটিকে ভেঙে দিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ রিঙ্গিতের অবৈধ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মাই মেট্রোর প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই পাচারকারীচক্রটি সীমান্তবর্তী অননুমোদিত স্থলপথ ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করিয়ে প্রথমে গোপন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখত। এরপর মুক্তিপণ আদায় করে তাদের পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানো হতো।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন সদরদপ্তরের মানবপাচার ও মানবপাচারবিরোধী এবং অর্থপাচার তদন্ত শাখা কেলান্তান ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখার সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, অভিযানে তল্লাশি চালানো বাড়িটি ‘রুমাহ পেনামপুং’ বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজে নজরে পড়ত না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই সচেতনভাবে এমন এলাকা বেছে নেয় সিন্ডিকেটটি।

অভিযানে ১২ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়-যাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া বাড়িটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ২৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা (মিয়ানমার) নাগরিককেও আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা গত তিনদিনের মধ্যে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের ‘ইঁদুরপথ’ নামে পরিচিত অননুমোদিত স্থলপথ ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করেন। মুক্তিপণ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ওই বাড়িতে আটকে রাখা হতো।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ ২০২৪ সালের শুরু থেকেই সক্রিয়। সিন্ডিকেটের মূলহোতা বাংলাদেশি নাগরিক ইকবাল, যিনি থাইল্যান্ড থেকে পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত আদায় করা হতো।

এদিকে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় বাড়ির মালিককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইন ২০০৭ (আইন ৬৭০) অনুযায়ী তদন্তের আওতায় আনা হবে।

জাকারিয়া শাবান আরও জানান, অভিযানের সময় ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইন্ডিকেটরস ২.০ অনুসরণ করে মানবপাচারের শিকার কেউ আছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসী পাচার ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com