ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযান

১০০ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২৯ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটক অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জনই বাংলাদেশের নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন। খবর দ্য স্টারের।

বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কেদাহ রাজ্যের কুলিম জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে বিশেষ এই অভিযান পরিচালিত হয়। ‘অপস সাপু’ নামের এই অভিযানে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল অংশ নেয়। গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন জানান, অভিযানে মোট ১৫৯ জনের পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ১২৯ জন বিদেশি ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২৯ অভিবাসীকেই আটক করা হয়।

আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি বা ওয়ার্ক পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান (ওভারস্টে) এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।

আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি, ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক।

ইমিগ্রেশন পরিচালক জানান, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন অবৈধ অভিবাসী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নির্মাণাধীন ভবনের উঁচু অংশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে অভিযানকারী সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সবাইকে আটক করা সম্ভব হয়।

মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। পরবর্তী তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ। একইসঙ্গে নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র ও কর্মঅনুমতিবিহীন বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযান

১০০ বাংলাদেশি আটক

আপডেট সময় ০৩:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২৯ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটক অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জনই বাংলাদেশের নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন। খবর দ্য স্টারের।

বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কেদাহ রাজ্যের কুলিম জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে বিশেষ এই অভিযান পরিচালিত হয়। ‘অপস সাপু’ নামের এই অভিযানে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল অংশ নেয়। গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন জানান, অভিযানে মোট ১৫৯ জনের পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ১২৯ জন বিদেশি ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২৯ অভিবাসীকেই আটক করা হয়।

আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি বা ওয়ার্ক পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান (ওভারস্টে) এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।

আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি, ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক।

ইমিগ্রেশন পরিচালক জানান, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন অবৈধ অভিবাসী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নির্মাণাধীন ভবনের উঁচু অংশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে অভিযানকারী সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সবাইকে আটক করা সম্ভব হয়।

মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। পরবর্তী তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ। একইসঙ্গে নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র ও কর্মঅনুমতিবিহীন বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস