বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ৯ বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা, প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তি : শিক্ষামন্ত্রী বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজ করছে সরকার : পরিবেশমন্ত্রী মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা ও অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী বেসরকারি মেডিকেলে এমবিবিএস এ মেধাবীদের জন্য ৫% কোটা চালু রয়েছে চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ

শবে মেরাজের রাতের আমল ও ফজিলত

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

আজ সেই পবিত্র ও অনন্য রাত যা মুসলিম উম্মাহর কাছে শবে মেরাজ হিসেবে পরিচিত। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই মহিমান্বিত রজনীতেই ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর হুকুমে ঊর্ধ্বলোক গমনের এক অলৌকিক সফরে বের হয়েছিলেন। সৃষ্টির ইতিহাসে এটিই একমাত্র সফর যেখানে একজন মানুষ আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছে সরাসরি স্রষ্টার দিদার লাভ করেছিলেন। একই রাতে তিনি দুনিয়া থেকে সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে যান এবং উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

মেরাজের এই মহান স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আজ রাতটি বিশেষ ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করবেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আসকার ও গভীর মোনাজাতের মাধ্যমে মুমিনরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত কামনা করবেন। হাদিস অনুযায়ী এই রাতে ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। 

শবে মেরাজ উপলক্ষে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ পরদিন নফল রোজা পালন করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বরকতময় রাতে ইবাদত করা এবং দিনে রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ রাতে নফল ইবাদত করবে ও দিনে রোজা পালন করবে। (ইবনে মাজাহ)। 

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, এ রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো; কেন না, এদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন; কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছ কি? আমি ক্ষমা করব; কোনো রিজিকপ্রার্থী আছ কি? আমি রিজিক দেব; আছ কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি উদ্ধার করব। এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করতে থাকেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৪)।

তবে শুধুমাত্র মেরাজ কেন্দ্রিক রোজা ছাড়াও রজব মাসের ফজিলত অর্জনে অনেকে তিন দিন রোজা রাখার আমল করেন।

আবূ কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতি মাসে তিন দিন সাওম (রোজা) পালন করা এবং রমজান মাসের সাওম, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সারা বছর সাওম পালনের সমান। আর আরাফাত দিবসের সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। এছাড়া আশুরা’র সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১৭)

ইসলামের দৃষ্টিতে নফল ইবাদত ও নফল নামাজ বান্দাকে আল্লাহর আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাই আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের এক বড় সুযোগ হিসেবে এই রাতটিকে দেখা হয়।

বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদে ও ঘরে ঘরে আজ আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করবে। স্রষ্টার প্রেমে বিভোর হয়ে রাত জেগে প্রার্থনা আর রোনাজারিতে মুখরিত হবে জনপদ। প্রতিটি ইবাদতকারী আশা রাখেন এই পুণ্যময় রাতের উছিলায় সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ফিরে আসবে এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ঘুচবে। ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত চলবে রহমত ও বরকত লাভের এই অনন্য নীরব প্রতিযোগিতা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com