পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামী হাদি আলি ছাট্টাকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের একটি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর দেশটির বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক মানব অধিকার বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর ইয়াসমিন আহমেদ এই দণ্ডাদেশকে পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার প্রতি বড় একটি অভিযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, মানবাধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ ও ভিন্নমত দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। বিচার চলাকালীন আইনজীবীদের প্রথমে সশরীরে উপস্থিতিতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কারাগার চত্বরে আদালত স্থানান্তরের পর তাদের একটি খাঁচার মতো কাঠামোর পেছনে রাখা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার চর্চা এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই তাদের এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।
বলপূর্বক গুম, অন্যায় রাষ্ট্রীয় বিচার এবং ধর্ম অবমাননা আইনের শিকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে সোচ্চার থাকার জন্য পরিচিত এই দুই আইনজীবী। গত ২৪ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সমালোচনা এবং বেলুচ ও পশতুন কর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পোস্ট করার দায়ে ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনের অধীনে তাদের ১০ থেকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
যদিও গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করেছিলেন, তবে একই দিনে পৃথক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগে তাদের আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০২৫ সালের মার্চে বেলুচ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা এবং ২০২৪ সালের একটি ক্রিকেট ম্যাচের নিরাপত্তা বেষ্টনী অপসারণের মতো পুরনো ঘটনার সঙ্গে এই মামলাগুলো সম্পৃক্ত। ২৬তম ও ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনের পর পাকিস্তানের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র উদ্বেগ চলছে, ঠিক তখনই এই আলোচিত রায়টি এলো।
সূত্র: এএনআই
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





















